উন্নয়ন বাজেটে বিশাল ‘অস্পষ্ট’ বরাদ্দ: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নাকি অক্ষমতা আড়াল?
আগামী অর্থবছরের এডিপিতে ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অস্পষ্ট এই বরাদ্দ জবাবদিহি ও বাস্তবায়ন সংকট আরও বাড়াতে পারে।
The proposed development budget for 2026-2027 includes an unusually large volume of block allocations without specified projects. Economists warn that while limited lump-sum allocations can be useful, excessive opaque spending may weaken accountability, encourage inefficiency, and expose deeper problems in project planning and implementation capacity.
আগামী অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বিশাল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার। যদিও এরমধ্যে বড় অংশই রাখা হচ্ছে ‘থোক বরাদ্দ’ হিসেবে। যার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যয় পরিকল্পনা বা প্রকল্প এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গত ১০ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশনের ‘বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি’র সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপির খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে চূড়ান্ত হওয়া নথিতে দেখা যায়- ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকাই থোক বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। যা মোট এডিপির প্রায় ৩৯ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও বড় বাজেট দেখানোর রাজনৈতিক কৌশলের আড়ালে এই বিপুল পরিমাণ অস্বচ্ছ অর্থ বরাদ্দ শেষ পর্যন্ত অনিয়ম ও লুটপাটের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন বাজেট বাস্তাবয়ানের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য খাতে চলমান অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বরাদ্দের মাত্র ১৬ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে খরচ হয়েছে মাত্র ৭৪৫ কোটি টাকা। শিক্ষা খাতের তিন বিভাগ মিলে ১৭ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার বিপরীতে ৯ মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অদক্ষতা দেখানো এই দুই খাতেই আগামী অর্থবছরে অস্বাভাবিক পরিমাণ থোক বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের বাইরেও প্রায় ২৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে থোক হিসেবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বড় থোক বরাদ্দ
অন্যদিকে, শিক্ষা খাতে থোক বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৩১ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে- ১ হাজার ৬৪৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অথচ এই বিভাগে থোক বরাদ্দ ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে মূল বরাদ্দ ৬ হাজার ৮ কোটি টাকা, আর থোক বরাদ্দ ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ৪৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। থোক বরাদ্দ ১৬ হাজার ২৯৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এসব খাতে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় থোক বরাদ্দ প্রায় তিনগুণ বেশি।
গত অর্থবছরের বরাদ্দের সামান্য অংশও ব্যয় করতে না পারা মন্ত্রণালয়গুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রকল্প ছাড়া এত বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র বলছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাস্তবায়নের এই দুর্বলতার কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেই কম বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু তা উপেক্ষা করে এই দুটি খাতকে অপ্রয়োজনীয় থোক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল দি ইনসাইটাকে বলেন, “কোনো মন্ত্রণালয় যা চায় তার বেশি দেয়ার সুযোগ নেই।”
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের দুর্বল বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিকল্পনা সচিব বলেন, “সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দক্ষ প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সরকারি কাঠামোর বাইরে থেকেও দক্ষ জনবল আনার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। যদি প্রতিযোগিতামূলক বাজার থেকে দক্ষ পিডি পাওয়া না যায়, তবে পিআরএল-এ (অবসরকালীন ছুটি) যাওয়া অভিজ্ঞ সরকারি বা বেসরকারি সেক্টরের ভালো চিকিৎসকদের নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের পিডি নিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছি। এরপরও যদি তার পারফর্ম করতে না পারে, আমরা তো তাদের ফাঁসি দিতে পারিনা।”
শুধু স্বাস্থ্য কিংবা শিক্ষা নয়, অন্যান্য খাতেও আগামী অর্থবছরে প্রচুর পরিমাণে থোক বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে কৃত্রিমভাবে বাজেটের আকার ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখাতে চাইছে সরকার। বিশেষ করে ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দকে ‘বাস্তবায়ন সক্ষমতার ঘাটতি আড়াল করার কৌশল’ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। সাধারণত প্রতি বছর ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ থাকলেও এবার তা প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পাওয়াকে অস্বাভাবিক বলছেন অর্থনীতিবিদরা। অবশ্য অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জরুরি বা অনির্ধারিত প্রয়োজনের জন্য সীমিত আকারে থোক বরাদ্দ অনেক দেশেই ব্যবহৃত হয়। তবে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দীর্ঘসময় প্রকল্পবিহীন থাকলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন তৈরি হয়।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়ে দি ইনসাইটাকে বলেন, “থোক বরাদ্দ যত কম হয় ততই ভালো। কারণ এগুলো কোন জায়গায়, কীভাবে ব্যয় হবে তা নিয়ে অস্পষ্টতা থেকে যায়। এবারের এই বিশাল উল্লম্ফনের কারণ স্পষ্ট করা উচিত। সাধারণত জরুরি প্রয়োজনের জন্য এটি রাখা হয়, কিন্তু এখন বিশাল অঙ্ক নির্দিষ্ট প্রকল্পের অধীনে না এনে কেন থোক রাখা হলো, তা প্রশ্নবিদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “যেখানে ব্যয়ের খাত অস্পষ্ট, সেখানে সুশাসন ও সাশ্রয়ী বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা থাকে না। ফলে অর্থনীতির অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ না হয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় টাকা খরচের প্রবণতা বাড়ে, যা অপচয় ও দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি করে।”
থোক বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল দি ইনসাইটাকে বলেন, “মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদা পূরণ করাই আমাদের কাজ। আমরা যদি তাদের চাহিদা পূরণ করি, এরপর উদ্বৃত্ত অর্থ কীভাবে ব্যবস্থাপনা করব, সেটা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্দিষ্ট প্রকল্প ছাড়া বিপুল অঙ্কের থোক বরাদ্দ ভবিষ্যতে অপচয় ও অদক্ষ ব্যয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাদের আশঙ্কা, রাজনৈতিকভাবে বড় বাজেট দেখানোর চেষ্টা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দক্ষতার ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।
বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপির মাত্র ৩৬ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। একদিকে প্রকল্প পরিচালকদের অদক্ষতা, অন্যদিকে ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ করায় কাজের গতি থমকে আছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতার অভাব, অর্থায়নে সমন্বয়হীনতা (দেশি ও বিদেশি অর্থের ছাড়), এবং বারবার প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন হওয়ার কারণে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পায়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে রাজস্ব উদ্বৃত্ত না থাকায় পুরো এডিপিই হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণনির্ভর। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এমন অস্বচ্ছ থোক বরাদ্দ দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি না করে ব্যয় বাড়ালে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দেয়। এতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হয় না এবং অপচয় ও সুশাসনের অভাব পরিলক্ষিত হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে বিগত ৫টি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়ন চিত্র। তাতে দেখা যায়- ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। যা মোট বরাদ্দের ৩৬.১৯ শতাংশ। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। হয়েছে ৮২ হাজার ৮৯৪ কোটি ০৮ লাখ টাকা। যা মোট বরাদ্দের ৩৬.৬৫ শতাংশ। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। যা মোট বরাদ্দের ৪২.৩০ শতাংশ। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন হয়েছে ৯৮ হাজার ৫২১ কোটি ০৩ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৪১.৬৫ শতাংশ। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৬০১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন হয়েছে ৯৮ হাজার ৯৩৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা। যা মোট বরাদ্দের ৪৫.০৫ শতাংশ।
এছাড়াও বিগত দেড় দশকের খতিয়ান হিসেব করলে দেখা যায়, সরকারি প্রকল্পগুলোর উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই নির্দিষ্ট মেয়াদে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যেন একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি প্রকল্প কতটা নিয়মকানুন মেনে যথাসময়ে সফলভাবে সম্পন্ন হতে পারে তার অনেকটাই নির্ভর করে প্রকল্প পরিচালকের যোগ্যতা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার ওপর। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়- সরকারি আমলারা প্রকল্প পরিচালক হওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ করতে থাকেন। যাদের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিষয়ে তেমন কোনো দক্ষতা নেই। এমনকি একজন কর্মকর্তা একই সঙ্গে অনেকগুলো প্রকল্পে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। বেশিরভাগ প্রকল্প পরিচালক প্রকল্প এলাকাতেই যান না। ফলে, বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থনীতি পুরোদমে দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে গেছে।
অধ্যপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই সমস্যাগুলোকে সমাধানের যে পদক্ষেপ- সেগুলোও যদি আমরা সমান্তরালভাবে না নিই, তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়নও হবে না পুরোটা। যেটুকু বাস্তবায়িত হবে, সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হবে না।
থমকে থাকা প্রকল্প ও বাড়তি ঝুঁকি
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতে সক্ষমতা বাড়াতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। প্রায় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত থার্ড টার্মিনালের সফট লঞ্চিং হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর। লক্ষ্য ছিল- দেশের আকাশপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের আধুনিক অবকাঠামো তৈরি করা এবং বার্ষিক যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ৪০ লাখে উন্নীত করা। নির্মাণের ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হলেও পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে টার্মিনালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এরকম দেশের নানা প্রকল্প নানা ধরণের জটিলতায় থমকে আছে। মানুষ সেখান থেকে সুফল পাচ্ছে না। ফলে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ব্যয় না বাড়িয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনার দিকে তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে থোক বরাদ্দের বিষয়ে আরো বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ তাদের।
আগামী ১৮ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এই এডিপির চূড়ান্ত অনুমোদন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে অনুমোদন হতে পারে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট। যার এক তৃতীয়াংশ থোক বা ব্লক বরাদ্দ। তবে সুনির্দিষ্ট স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এই বিশাল উন্নয়ন বাজেট কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।






