জামায়াতের ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি গণমুখী বিস্তারের অন্তরায়?
জামায়াতের সুসংগঠিত ক্যাডার কাঠামোই দলটির শক্তি, আবার গণমুখী বিস্তারের পথে প্রধান বাধাও। এফপিটিপি পদ্ধতিতে কেবল নিবেদিত কর্মী দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যায় না, প্রয়োজন সমাজের বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর সমর্থন।
Jamaat's organized cadre structure is its greatest strength, and the very thing capping its mass appeal as well. Under the first-past-the-post system in Bangladesh, real power needs more than devoted workers; it needs a broad support base in society. Indeed, the distance between the party's inner ring and its outer supporters is the real crisis.
জামায়াতের ক্যাডারভিত্তিক শক্তিই কি জামায়াতের গণমুখী বিস্তারের অন্তরায়? আমি মনে করি, এটি একমাত্র কারণ নয়, কিন্তু বড় একটি কাঠামোগত কারণ বটে। বাংলাদেশের ৩০০টি সরাসরি সংসদীয় আসন একক-আসনভিত্তিক ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট বা এফপিটিপি পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়। এই ব্যবস্থায় জিততে হলে প্রার্থীকে শুধু অন্যদের চেয়ে বেশি ভোট পেলেই হয়। ব্রিটেইনিকা’র ভাষায়, এই পদ্ধতি সবচেয়ে ভালো কাজ করে এমন পরিবেশে যেখানে বড় আকারের ভোটের জোট বা বড় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি তৈরি হয়। তাই নিবেদিত কিন্তু সীমিত আদর্শিক জনগোষ্ঠী দিয়ে কিছু আসনে ভালো করা সম্ভব হলেও রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া সহজ হয়ে ওঠেনা। এর জন্য বরং আসন-ভিত্তিক বড় সামাজিক সমর্থন তৈরি করতেই হয়। তাই বাংলাদেশের মতো সমাজে নারী, তরুণ, পেশাজীবী, গ্রাম-শহর, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, স্থানীয় প্রভাবশালী- সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতার রাজনীতি আবশ্যক।
জামায়াতের নিজস্ব সংবিধান দলটির শক্তি এবং সীমা দুটিই বোঝার জন্য যথেষ্ট। সেখানে দলটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে যে, তারা নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে চায়। অর্থ্যাৎ জনমত গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে বৈধ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী দলটি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জামায়াতের সহযোগী সদস্য হওয়ার দরজা বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিকের জন্য খোলা। এমনকি অমুসলিম নাগরিকও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানালে সহযোগী সদস্য হতে পারেন। তবে মূল সিদ্ধান্তগ্রহণের কাঠামো রুকনভিত্তিক। নেতৃত্ব নির্বাচন, শূরা প্রতিনিধিত্ব, নীতিনির্ধারণ এসবই মূলত শপথবদ্ধ জনশক্তির হাতে। এখানেই প্রধান সমস্যাটি তৈরি হয়। সাধারণ সমর্থক, সহানুভূতিশীল ভোটার বা স্থানীয় শুভানুধ্যায়ী দলকে সমর্থন করতে পারেন, কিন্তু দলটিকে “নিজের দল” বলে অনুভব করার মতো প্রাতিষ্ঠানিক জায়গা পান না। গণমুখী রাজনীতির জন্য এটি বড় বাধা। কারণ একটি দল তখনই গণদল হওয়ার দিকে এগোয়, যখন সাধারণ মানুষ শুধু তার পক্ষে ভোট দেয় না, বরং বিশ্বাস করে যে দলটির ভেতরেও তার কণ্ঠের জায়গা আছে।
ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মরিস দ্যুভার্জে বলেছিলেন, ক্যাডার-ভিত্তিক ও গণমুখী দলের পার্থক্য সংখ্যায় নয়, কাঠামোয়। সেই অর্থে জামায়াত একটি সুসংগঠিত ক্যাডারভিত্তিক দল। এর সুবিধা হলো আদর্শিক সামঞ্জস্য, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে নেতৃত্ব তৈরি, স্পষ্ট আদেশ-অনুক্রম এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংগঠন টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা। শপথবদ্ধ জনশক্তিদের সংগঠন সাধারণত সুযোগসন্ধানীদের অনুপ্রবেশও কমায়। কিন্তু এখানেই একটি ভুল ধারণা কাজ করে: অনেকে মনে করেন গণমুখী দল মানেই কম সংগঠিত দল। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। কারণ গণমুখী হওয়া এবং সংগঠিত থাকা পরস্পরবিরোধী নয়। সফল বড় দলগুলো এই দুই বৈশিষ্ট্যই একসঙ্গে ধরে রাখে।
জামায়াতের আসল সংকট সংগঠন থাকা না-থাকা নিয়ে নয়। সংকটটা হলো ভেতরের নেতৃত্ববলয় আর বাইরের সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে দূরত্ব। এফপিটিপি ব্যবস্থায় এই দূরত্বই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, কারণ এখানে শুধু নিবেদিত কর্মী থাকলে চলে না; বড় ভোট-জোটও লাগে। জামায়াতের এ সংকটের বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে অতীতের নির্বাচনগুলোতে। ঐতিহাসিকভাবে জামায়াত প্রায় সব সময় নিজের অভ্যন্তরীণ বলয়ের লোকদেরই মনোনয়ন দিয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এর ব্যত্যয় ঘটিয়েছে দলটি। একজন হিন্দু প্রার্থী দেয়া অতীতের সেই অন্তর্মুখী রাজনীতি থেকে তাদের বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত দেয়। দলটিও হয়তো বুঝছে যে, কেবল শপথবদ্ধ কর্মীবাহিনী দিয়ে গণমুখী রাজনীতি ও জাতীয়ভাবে বিস্তার সম্ভব নয়।
তবে স্থানীয় পর্যায়ে চিত্রটি ভিন্ন। স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত একই ধারায় নিজ সাংগঠনিক বলয়ের বাইরের লোকদের প্রার্থী দিতে পারবে কি না সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। দি ইনসাইটার একটা বিশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয় কাঠামোকেই প্রাধান্য পাচ্ছে। এতে জনমত উপেক্ষিত হচ্ছে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কেবল রুকন মর্যাদার বা স্থানীয় দলীয় পদধারীদের প্রাধান্য দেয়া নিয়ে জামায়াতের তৃণমূলে নানা ক্ষোভ-বিভক্তির খবরও উঠে এসেছে ইনসাইটার অনুসন্ধানে।
এক্ষেত্রে বিশ্ব রাজনীতির উদাহরণগুলোর দিকে দৃষ্টি দেয়া যেতে পারে। যেমন, ভারতের বিজেপি সম্পর্কে কার্নেগী এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস লিখেছে যে, দলটি ঐতিহ্যগতভাবে ক্যাডার ভিত্তিক ও আদর্শবাদী; কিন্তু সারা দেশে বৃহৎ পরিসরে সদস্যসংগ্রহণ অভিযান চালিয়ে তারা ক্যাডার সিস্টেম ও গনসম্পৃক্ততার এক ধরনের সংকর রূপের দিকে গেছে। এখানের শিক্ষা হলো: ভেতরের ক্যাডার সিস্টেম রেখে রেখে বাইরের গণমুখীতা বাড়ানো সম্ভব, যদিও এতে কোর পার্টি লিডার বনাম নব্য মেম্বারদের মাঝে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এর টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। তিউনিসিয়ার আন্নাহদা পার্টির অভিজ্ঞতা আবার অন্যরকম। ২০১৬ সালে দলটি দাওয়াহ ও রাজনীতিকে আলাদা করে। সমঝোতা ও ঐকমত্যে সক্ষম একটি রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করে। এর অর্থ হলো, আন্নাহদা বুঝতে পেরেছিল যে শুধু ধর্মীয় পরিচয় বা আন্দোলন ভিত্তিক চরিত্র ধরে রাখলে একটি বহুবৈচিত্রময় সমাজে দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া কঠিন। তাই তারা এমন একটি রাজনৈতিক ভাষা ও সংগঠনগত রূপ খুঁজতে চেয়েছিল, যা তাদের আদর্শিক শিকড় অস্বীকার না করেও বৃহত্তর সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
তবে আন্নাহদার এই রূপান্তর সহজ ছিল না। তাদের নিয়ে কার্নেগী এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর গবেষণা বলছে, এই বহুমুখীকরণ পুরোনো নেতৃত্ব ও নতুন সদস্যদের মধ্যে বিভাজনও তৈরি করেছিল। অর্থাৎ, দলের পুরোনো নেতৃত্ব ও সনাতন ধারা কর্মীরা মনে করতে পারেন যে, দল তার মূল পরিচয় থেকে সরে যাচ্ছে। আবার নতুনদের কাছে এই পরিবর্তন যথেষ্ট না ও মনে হতে পারে। ফলে দল যখন বিস্তৃত সামাজিক পরিসরে পৌঁছাতে চায়, তখন তাকে শুধু নতুন সমর্থক জোগাড় করলেই হয় না; পুরোনো ভিত্তিকেও আশ্বস্ত করতে হয় যে, এই পরিবর্তন আত্মবিসর্জন নয়, বরং গণসমর্থন লাভ এবং রাজনৈতিক মাঠে টিকে থাকার কৌশল।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জামায়াতের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
প্রথমত, রুকনভিত্তিক অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে, কিন্তু সহযোগী সদস্যদের কেবল দর্শক বানিয়ে রাখা যাবে না। স্থানীয় নীতিনির্ধারণী ফোরাম, ওয়ার্ড বা উপজেলা সম্মেলন, ইস্যুভিত্তিক কমিটি, প্রার্থী-বিষয়ক পরামর্শ এসব জায়গায় বৃহত্তর সমর্থকগোষ্ঠীকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। এতে তাদের হাতে পুরো সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ যাবে না; বরং তারা নিজেদের মর্যাদাপূর্ণ অংশীদার বলে মনে করবে। দলীয় সংবিধানে যখন জনমত, গণতান্ত্রিক কৌশল ও উন্মুক্ত সহযোগী সদস্যপদের কথা আছে, তখন এই বাইরের বলয়কে অর্থবহ অংশগ্রহণ দেওয়া আদর্শচ্যুতি নয়, বরং ঘোষিত কৌশলেরই বাস্তব প্রয়োগ।
দ্বিতীয়ত, প্রার্থী তৈরির পথ খুলতে হবে। যদি মনোনয়ন কেবল দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সিঁড়ি পেরোনো মানুষের জন্য সংরক্ষিত থাকে, তবে দল কখনোই সমাজের বৈচিত্র্যকে ধারণ করতে পারবে না। কারণ সমাজ বদলাচ্ছে, নতুন শ্রেণি তৈরি হচ্ছে, নতুন ধরনের নেতৃত্ব উঠে আসছে, এবং ভোটাররাও আগের তুলনায় ভিন্ন ধরনের প্রতিনিধি খুঁজছে। শুধু সাংগঠনিক আনুগত্য বা দীর্ঘদিনের ভেতরের অভিজ্ঞতা অবশ্যই একটি মূল্যবান গুণ, কিন্তু সেটিই যদি একমাত্র মানদণ্ড হয়ে যায়, তাহলে দল নিজেদের কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারবে, কিন্তু সামাজিক বিস্তার ঘটাতে পারবে না। এই কারণে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য শিক্ষক, চিকিৎসক, তরুণ উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, নাগরিক সমাজের মুখ, নারী নেতা, সংখ্যালঘু প্রতিনিধি, এমনকি রুকন নন কিন্তু বন্ধু ভাবাপন্ন গ্রহণযোগ্য মুখদেরও ধাপে ধাপে মনোনয়ন ব্যবস্থার মধ্যে আনতে হবে। এতে দল শুধু নতুন মুখ পাবে না; সমাজের বিভিন্ন অংশও নিজেদের দলটির ভেতরে প্রতিফলিত হতে দেখবে। এখানে “ধাপে ধাপে” কথাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হঠাৎ করে বহিরাগতদের এনে পুরোনো সংগঠনকে চ্যালেঞ্জ জানানো নয়, বরং এমন একটি নিয়ন্ত্রিত উন্মুক্ততা দরকার, যেখানে নতুনদের জন্য প্রশিক্ষণ, পরীক্ষামূলক দায়িত্ব, স্থানীয় পর্যায়ের সম্পৃক্ততা, নীতিগত অভিমুখন, এবং ধীরে ধীরে নেতৃত্বে উত্তরণের পথ তৈরি থাকবে। এতে একদিকে পুরোনো নেতৃত্ববলয়ের আশঙ্কা কমবে, অন্যদিকে নতুনদের জন্যও একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রবেশদ্বার তৈরি হবে।
তৃতীয়ত, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি পৌঁছানোর রাজনীতি যেন একবারের প্রতীকী পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রথম হিন্দু প্রার্থী দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাতে স্থায়ী আস্থা তৈরি হয় না। আস্থা গড়ে ওঠে নিয়মিত জেলা-পর্যায়ের যোগাযোগ, নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্নে অবস্থান, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া, এবং নাগরিক সুরক্ষাকে রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ করার মাধ্যমে। যদি একবার একজন সংখ্যালঘু প্রার্থী দেওয়া হয়, কিন্তু পরে আর সেই ধারা যদি বজায় না থাকে, তাহলে তা সহজেই লোকদেখানো উদ্যোগ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু যদি বিভিন্ন স্তরে, বিভিন্ন অঞ্চলে, নিয়মিতভাবে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের সামনে আনা হয়, তাহলে সেটি দলটির সামাজিক প্রসারের বাস্তব প্রমাণ হয়ে ওঠে।
সবশেষ, দলকে নৈতিক উচ্চতার ভাষার সাথে সুশাসন-সামর্থ্যের ভাষা আরও স্পষ্টভাবে বলতে হবে। অর্থাৎ, শুধু এই দাবি করলেই হবে না যে, দল অন্যদের তুলনায় বেশি নীতিবান, সৎ বা আদর্শনিষ্ঠ। সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত বিচার করে তাদের জীবনের বাস্তব সমস্যা কে কতটা বুঝছে এবং সমাধানের সক্ষমতা দেখাচ্ছে তার ওপর। তাই দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, নগরসেবা, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও স্থানীয় সরকার এসব বিষয়ে সারা বছরজুড়ে ধারাবাহিক রাজনীতি করতে হবে। নির্বাচনের সময় কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে নীরব হয়ে গেলে গণমুখী ভিত্তি তৈরি হয় না। বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযন্ত্রণা, অনিশ্চয়তা ও প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক ভাষা গড়ে তুলতে হয়। অর্থাৎ, বাজারদর বাড়লে দল কী বলবে, বেকারত্ব বাড়লে কী প্রস্তাব দেবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার নিয়ে তাদের ভাবনা কী, কৃষকের সংকট বা নগরবাসীর ভোগান্তি নিয়ে তাদের অবস্থান কী এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট, ধারাবাহিক ও বাস্তবসম্মত ভাষা থাকতে হবে। কারণ সত্যিকারের গণমুখী দল সেই দল, যে মানুষের ধর্মীয় বা নৈতিক অনুভূতির সঙ্গে কথা বলে বটে, কিন্তু সেখানেই থেমে থাকে না; বরং মানুষের প্রতিদিনের জীবনসংগ্রামের ভাষায়ও কথা বলে।
সব মিলিয়ে, জামায়াতের সামনে মূল প্রশ্নটি আদর্শ বনাম ভোটের নয়; বরং সংগঠন কাঠামো বনাম সামাজিক বিস্তারের। আদর্শ ধরে রাখা যাবে কি না, সেটি প্রধান সংকট নয়। প্রধান সংকট হলো, শক্তিশালী সংগঠনভিত্তিকে বিস্তৃত সামাজিক ভিত্তিতে রূপ দেওয়া যাবে কি না। যদি দলীয় কাঠামোর বাইরের সমাজ কেবল দর্শক থাকে আর ভেতরের বলয়ই সবকিছুর কেন্দ্র হয়ে থাকে, তবে দলটি সম্মান পেতে পারে, প্রভাবও রাখতে পারে, কিন্তু প্রকৃত জনসম্পৃক্ত দলে পরিণত হবে না। আর বাংলাদেশের নির্বাচনী বাস্তবতায় গণভিত্তি ছাড়া রাষ্ট্রক্ষমতার পথে এগোনো অত্যন্ত কঠিন। তাই গণমুখী হওয়া জামায়াতের জন্য কোনো বিলাসিতা নয়; এটি ক্ষমতার পথে একটি পূর্বশর্ত। এটি সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়, কিন্তু এই শর্ত পূরণ ছাড়া বাস্তব ক্ষমতার পথও খুলবে না।
লেখক পরিচিতি
আবরার মোহসিন সামিন পেশায় একজন প্রকৌশলী ও গবেষক, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত। কাজের পাশাপাশি তিনি সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখালেখি করেন। জনাব সামিনের সঙ্গে abrersamin.iut16@gmail.com এ যোগাযোগ করা যাবে।
Disclaimer: The views expressed in this article are the authors' own and do not necessarily reflect The Insighta's editorial stance. However, any errors in the stated facts or figures may be corrected if supported by verifiable evidence.


