জিম্মি হচ্ছে দুদক! সাংবিধানিক নাকি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পথে?
নতুন আইনে দুদক পাচ্ছে না সাংবিধানিক মর্যাদা, হারাচ্ছে গ্রেফতার ও আর্থিক স্বাধীনতা। কমছে কমিশনার সংখ্যা, ৩ মাসেও নিয়োগ নেই। শূন্য পদে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সরকারি সচিব—স্থায়ী হচ্ছে আমলা নির্ভরতা।
The new law is not granting constitutional status to the ACC. Its proposed authority to arrest is being taken away. If the posts of chairman and commissioner are vacant, the government secretary can make all decisions. Even after 3 months, the government has not appointed new commissioners. This temporary bureaucratic dependence is being made permanent. Financial independence is being taken away. The number of commissioners is being reduced.
দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে দুদক থেকে কেড়ে নেয়া হচ্ছে আসামিকে গ্রেফতারে দুদকের নিজস্ব ক্ষমতা। একইসাথে নানা বিধানে সংকুচিত করে ব্যাপকভাবে কমানো হচ্ছে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা। কার্যত নির্বাহী বিভাগের কাছে জিম্মি করা হচ্ছে স্বাধীন এই সংস্থাকে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে উপেক্ষা করে প্রণীত এই নতুন আইনে দুদককে কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি ‘ক্ষমতা’ দেয়া হলেও কার্যত কেড়ে নেয়া হচ্ছে এর সক্ষমতা ও স্বাধীনতা। বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতাহীন এই ক্ষমতা দুর্নীতি দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেয়ে নির্বাহী বিভাগের হাতে নিয়ন্ত্রণের নতুন হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। ফলে সরকার বা সরকারি দপ্তরগুলোর দুর্নীতি অনুসন্ধান বা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে “নখ-দন্তহীন বাঘ” হয়েই থাকতে হবে দুদককে।
যদিও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, দুদক আইন সংশোধনে সরকার কোনো নতুন খসড়া প্রণয়ন করেছে- এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য তার কাছে নেই।
উল্লেখ্য, সরকারের প্রস্তুত করা দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর খসড়া দি ইনসাইটার হাতে এসেছে। সে খসড়া বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুদক আইনে বেশকিছু বড় সংশোধনী আনার প্রস্তুাব করা হয়েছে্। এই সংশোধনীগুলো অন্তর্বর্তীকালীন বা বিএনপি সরকারের দুর্নীতি বিরোধী সংস্কারের মূল চেতনার পরিপন্থী। পাশাপাশি এটি দুদকের স্বাধীনতায়ও বড় আঘাত।
আমলার হাতে কমিশনের চাবিকাঠি
নতুন আইনের ধারা ১০ সংশোধনের মাধ্যমে বিধান করা হয়েছে, চেয়ারম্যান ও কমিশনারের পদ শূন্য থাকলে কমিশনের সরকার-নিযুক্ত সচিবই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন এবং তা কমিশনের সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে। বিশ্লেষকরা এটিকে আইনের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, দুদক একটি স্বাধীন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হলেও একজন আমলার হাতে এর সর্বোচ্চ ক্ষমতা অর্পণ করায় সংস্থাটির স্বাধীন সত্তা নষ্ট হবে। ফলে সরকার যদি দীর্ঘ সময় ধরে কমিশনারের শূন্যপদ পূরণ না করে, তাহলে সচিবের মাধ্যমেই পুরো কমিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনার সুযোগ পাবে। ইতিমধ্যেই ৩ মাস পার হলেও নতুন কমিশনার নিয়োগ করা হয়নি, এটা তারই নমুনা বলে মত তাদের।
এই বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দি ইনসাইটাকে বলেন, কমিশনহীন অবস্থায় দুদকের নেতৃত্বে বর্তমানে যারা আছেন, তাদের কাছে আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত বাস্তবে স্বাধীন, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক দুর্নীতি দমন কমিশন প্রত্যাশা বা সুপারিশ আশা করার কোনো যুক্তি নেই। বরং আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রনের অধিকতর আইনী কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের দৃষ্টান্ত দৃশ্যমান। এজন্যই কমিশনহীন বর্তমান অবস্থার সুযোগে সচিবের হাতে দুদকের নির্বাহী ক্ষমতা অর্পণের সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে তিনজন ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী পাঁচজনের যৌথভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এককভাবে সচিবের হাতে অর্পণের সুপারিশ সম্পুর্ণ অযৌক্তিক ও স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিষ্ঠার ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ প্রয়াস।
তিনি বলেন, এ প্রস্তাব গৃহীত হলে শুধু কমিশনহীন অবস্থায় নয়, বরং কমিশন থাকাকালীন সময়েও আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্বের অধিকতর ক্ষমতায়ন হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা আরও খর্ব হবে।
প্রস্তাবিত খসড়া আইনে দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অনুপস্থিতিতে সচিবকে দায়িত্ব দেয়ার বিধানটিকে একটি বড় বিপর্যয় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে আমলাতান্ত্রিক সংস্থায় রূপান্তরের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সাবেক জ্যেষ্ঠ বিচারক ড. শাহজান সাজু। তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালত ও আপীল বিভাগেও বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দি ইনসাইটাকে তিনি বলেন, কোনো সংস্থাকে তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা স্বাধীনভাবে কাজে লাগাতে না দিলে তা অকার্যকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সার্চ কমিটিকে পাশ কাটিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আমলাদের হাতে দুদকের শীর্ষ নেতৃত্ব চলে গেলে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও জনমনে এর গ্রহণযোগ্যতা পুরোপুরি নষ্ট হবে। আমলাদের নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত একজন সচিবের পক্ষে করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি দুদককে একটি চরম অনাস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে। এই আইন সংসদে পাশ হলে সরকারের দেউলিয়াত্বই প্রকাশ পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কেড়ে নেয়া হচ্ছে গ্রেফতারের ক্ষমতা
২০০৪ সালের আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, দুদক কর্মকর্তারা সম্পদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে যেকোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারতেন। তবে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের নতুন আইনেও এই ক্ষমতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হচ্ছে। ফলে দুদক এখন আর নিজে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না। তাদের পুরোপুরি পুলিশের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। দুর্নীতি তদন্তে যেখানে দ্রুত পদক্ষেপ ও তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ জরুরি, সেখানে এই সিদ্ধান্ত দুদকের স্বায়ত্তশাসনকে পঙ্গু করে দেবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও এই ক্ষমতা বিলুপ্তির কোনো সুপারিশ ছিল না।
আর্থিক স্বাধীনতা ও নেতৃত্বের পরিধি সংকোচন
আগে সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়াই বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে পারত দুদক। কিন্তু নতুন আইনে ধারা ২৫ প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, এখন থেকে বাজেট নির্ধারিত হবে “সরকারের প্রস্তাব বিবেচনাক্রমে” এবং সরকারি বিধি-বিধানের অধীনে। এতে দুদকের আর্থিক স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে তা পুরোপুরি সরকার-নির্ভর হয়ে পড়ছে। ফলে দুদক চাইলেও সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে খুব একটা যেতে পারবে না।
অন্যদিকে সংস্কার কমিশন যেখানে দুদকের নেতৃত্ব বহুমুখীকরণের জন্য কমিশনার সংখ্যা ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ জন করার সুপারিশ করেছিল, সেখানে উল্টো তা কমিয়ে ৪ জন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিশনারদের মেয়াদ ৫ বছর থেকে কমিয়ে ৪ বছর করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কোরাম হ্রাস করায় কম সদস্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে নানা সময় প্রশ্ন উঠতে পারে।
দুদকের আর্থিক স্বাধীনতা সংকোচন এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে সাবেক জ্যেষ্ঠ বিচারক ড. শাহজান সাজু বলেন, আর্থিক সক্ষমতা ও স্বাধীনতা না থাকলে এবং অর্থ বা অন্য মন্ত্রণালয়ের দিকে চেয়ে থাকতে হলে কোনো সংস্থাই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। উদাহরণ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন বাতিলের ফলে বিচার বিভাগের আর্থিক ক্ষমতা খর্ব হওয়ার বিষয়টি টেনে তিনি বলেন, দুদকের ক্ষেত্রেও এমনটি হলে প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে। তিনি এও বলেন, আইন প্রণেতারা হয়তো এখন এর পরিণতি বুঝতে পারছেন না। কিন্তু অতীতে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ চাপানোর ফল যেভাবে রাজনৈতিক সরকারকে দীর্ঘমেয়াদে বা স্বল্পমেয়াদে ভোগ করতে হয়েছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
সংস্কার কমিশনের মূল সুপারিশগুলোই উপেক্ষিত
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে গঠিত ‘দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন’ সংস্থাটিকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করতে ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ৪৭টি সুপারিশ জমা দেয়। কিন্তু ২০২৬ সালের নতুন এই আইনে সংস্কার কমিশনের মৌলিক সুপারিশগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। সংস্কার কমিশনের প্রধান সুপারিশ এবং ‘জুলাই সনদ’ এর অঙ্গীকার অনুযায়ী দুদককে সাংবিধানিক মর্যাদা দেয়া হয়নি। আইনে শুধু ‘সংবিধিবদ্ধ’ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে। যা সাধারণ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় যেকোনো সময় পরিবর্তন সম্ভব।
নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে উন্মুক্ত শুনানি ও মূল্যায়ন মানদণ্ডসহ যে ৭ সদস্যের ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’র প্রস্তাব করা হয়েছিল, নতুন আইনে তা রাখা হয়নি। ফলে অতীতের মতোই ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে নিয়োগের অস্বচ্ছ পথ বহাল রয়ে গেছে।
ড. ইফতাখারুজ্জামান। যিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্তবর্তী সরকারের সময় তিনি দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দি ইনসাইটাকে তিনি বলেন, দুদকের সর্বোচ্চ স্বাধীনতার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিতের লক্ষ্যেই সংস্কার কমিশন মৌলিক কৌশলগত সুপারিশমালা উপস্থাপন করেছেন। সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথেই সকল রাজনৈতিক দল সম্পুর্ণ একমত হয়েছে। কিন্তু দুদকের কর্মীরা দৃশ্যত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এগুলো বিবেচনায় নেয়নি। যা দুদকের জন্যই বিব্রতকর ও আত্মঘাতী, তবে মোটেও অবাক হওয়ার বিষয় নয়। আমলাতন্ত্রের হাতে জিম্মি দুদকের স্বাধীনতা, কার্যকরতা ও জবাবদিহিতার পথে অন্যতম অন্তরায় দুদক নিজেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি ছিল দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জনগণের তীব্র ক্ষোভ। জনগণ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান চেয়েছিল। এই অবস্থায় দুদকের স্বাধীনতা সংকুচিত করা সংস্কারের অঙ্গীকারের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং তা জনগণের মাঝে নতুন করে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।
তারা বলছেন, একটি দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার মূল প্রাণভোমরা হলো তার স্বাধীনতা। তাই দুদককে কার্যকর করতে হলে অবিলম্বে সচিবকে ক্ষমতা দওয়ার বিধান প্রত্যাহার, দ্রুত শূন্যপদ পূরণ, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং আর্থিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
এই বিষয়ে কথা হয় নিউ এজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আহম্মদ ফয়েজ এর সাথে। যিনি দুদক বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোটার্স অ্যাগেইন্স্ট করাপশন (র্যাক) এর সভাপতি ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সিনিয়র সহাকরী প্রেস সচিব হিসেবে।
দি ইনসাইটাকে তিনি বলেন, নতুন এই সংশোধনীর সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো- চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদ খালি থাকলে দুদকের ‘সচিব’ (যিনি একজন সরকারি আমলা বা সিভিল সার্ভেন্ট) কমিশনের সব দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এর ফলে দুদকের ওপর সরকারের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে। যা একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত ‘দুদক সংস্কার কমিশন’ এবং ‘জুলাই সনদ’-এ দুদককে একটি ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছিল। যাতে এটি রাজনৈতিক বা আমলাতান্ত্রিক চাপমুক্ত থাকে। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবিত এই সংশোধনী তার ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে।
তিনি বলেন, দুদককে শক্তিশালী করতে হলে আমলাতান্ত্রিক ক্ষমতা না বাড়িয়ে সংস্থাটির পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে অবিলম্বে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা এবং জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দুদককে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।
যদিও নতুন খসড়া আইনটিতে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ইনসাইডার ট্রেডিং, কর-শুল্ক জালিয়াতি এবং বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের অপরাধের মতো বিষয়গুলো দুদকের এখতিয়ারভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের মামলায় পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে। তদন্ত-পূর্ব আবশ্যিক অনুসন্ধান বাতিলের মাধ্যমে সরাসরি এজাহার দায়েরের পথ তৈরি করা হয়েছে। যা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




