গুম, মানবাধিকার ও দুর্নীতি বিরোধী অধ্যাদেশ বাতিল—কার স্বার্থে?
জবাবদিহিমূলক আইন থেকে কেন সরে আসছে সরকার? গুমের সাথে সরকারের বাহিনী জড়িত, তাই গুম বিরোধী অধ্যাদেশ বাতিল?
Questions are mounting over the rollback of key accountability-focused ordinances on enforced disappearances, human rights, and anti-corruption. As legal safeguards weaken, concerns grow over justice, transparency, and institutional reform—raising fears that Bangladesh’s democratic transition may be losing its moral and structural grounding.
গুম একটি সংবেদনশীল অপরাধ। এর সাথে সরকারের শৃঙ্খলা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দায় সম্পৃক্ত। ২০২৫ সালের জাতীয় মানবাধিকার অধ্যাদেশের সঙ্গে এই অধ্যাদেশের সংযোগ থাকায় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অধিকতর কনসালটেশন প্রয়োজন। অধ্যাদেশটি রহিত করে পরে অধিকতর সংশোধনসহ একটি নতুন আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবে এসব কথাই লেখা হয়েছে সরকারি নথিতে।
এই অধ্যাদেশ বাতিল চেষ্টার সমালোচনা করে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন দি ইনসাইটাকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুম খুনের বিচারের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে কিছুটা আশার আলো দেখা গেছে। কিন্তু এই অধ্যাদেশ বাতিল হলে গুমের বিচার কীভাবে হবে? সেই প্রশ্নটি থেকে যায়।
মূলত ‘গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন’-এর বিধানাবলী জাতীয় আইনি কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে গুমকে “চলমান অপরাধ” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে এর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সংশোধনী অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালে পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের বিধান আনা হয়েছে। এছাড়াও অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগী ব্যক্তিগত উদ্যোগেও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। সংশোধনী অধ্যাদেশটিতে কোনো ব্যক্তি কমপক্ষে ৫ বছর ধরে গুম থাকলে এবং জীবিত না ফিরলে ট্রাইব্যুনাল তাঁর সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য মর্মে ঘোষণা দিতে পারবে।
কিন্তু সরকার কেন জবাবদিহিমূলক এই বিধানগুলোকে বাতিল করে দিতে চাইছে? যেখানে ইলিয়াস আলীর মতো বিএনপির বহু প্রভাবশালী নেতারা গুমের শিকার হয়েছেন এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর-ডিজিএফআই পরিচালিত কথিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি), যা পরে ‘আয়নাঘর’ নামে কুখ্যাতি পেয়েছে? অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এখানে অন্তত ২৬ জনকে গুম করে রাখা হয়, যারা পরে বিভিন্নভাবে জীবিত ফিরে আসেন। এ ২৬ জন ছাড়াও আরও অসংখ্য মানুষ জেআইসিতে আটক ছিলেন, যাদের বিষয়ে তদন্ত চলমান। এ সংক্রান্ত মামলায় সাবেক পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের পাঁচজন সাবেক মহাপরিচালক (মেজর জেনারেল পদ মর্যাদার), কাউন্টার টেরোরিজম ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিটিআইসি) পাঁচজন পরিচালক ও একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬ বাতিল করে দিলে এসব অভিযুক্তরা কি ছাড় পেয়ে যাবেন? যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তারা কি ন্যায় বিচার কিংবা প্রতিকার পাবেন?
নূর খান লিটন বলেন, যারা বিগত দিনে গুম খুনের সাথে জড়িত ছিল- এসব অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে তাদেরকে দায়মুক্তি দেয়ার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
এমন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন), অধ্যাদেশ ২০২৫’ বাতিল করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার। ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৪ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-এর মাধ্যমে সংশোধন করা হয়। এতে বাছাই কমিটির সভাপতির অবর্তমানে উপস্থিত সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। পরবর্তীতে নতুন করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। যার মাধ্যমে ২০০৯ সালের আইনটি বাতিল করা হয়। সংশোধিত এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এই অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার কি আবারও মানবাধিকার কমিশনকে নিজেদের আজ্ঞাবহ করে রাখতে চায়? নূর খান লিটন বলেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ। এসব অধ্যাদেশ একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হলে, গুমের সাথে জড়িত যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য- তাদের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হবে। এই আশঙ্কা থেকেই থেকে যায়। এসব অধ্যাদেশ বাতিল হলে একটা সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হবে।
শুধু গুম প্রতিরোধ কিংবা মানবাধিকার অধ্যাদেশই নয়- অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা এমন অনেক জবাবদিহিহিমূলক অধ্যাদেশ বাতিল করে দিচ্ছে বর্তমান সরকার। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশসহ ২০টি অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে অনুমোদন করা হচ্ছে না। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশসহ চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। অন্য ১৬টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। যেখানে বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রধান বিচারপতির সাবজেক্টিভ স্যাটিসফেকশনের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি একাধারে কাউন্সিলের সভাপতি। তাঁর পছন্দেই সদস্য হবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আপিল বিভাগের বিচারক এবং আরেকজন আইনের অধ্যাপক। অধ্যাদেশের ১০ ধারা অনুযায়ী কাউন্সিলের প্রস্তাবকৃত নামগুলো সম্পর্কে তিনিই সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদান করবেন। এই অধ্যাদেশে উল্লেখ আছে, প্রধান বিচারপতি কাউন্সিলের সুপারিশকৃত নামগুলো রাষ্ট্রপতির নিকট প্রস্তাব করবেন। রাষ্ট্রপতি কাউন্সিল-প্রদত্ত তালিকা হতে নিয়োগ দিতে বাধ্য থাকবেন। অর্থাৎ বিচারপতি নিয়োগে রাষ্ট্রপতির কার্যত কোনো ভূমিকা থাকবে না। অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলে সরকারের প্রতিনিধিত্বও খুবই কম। তাই সরকারের প্রভাবমুক্ত একটি নিয়োগ পদ্ধতি হবে।
এই অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে সরকার বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মনির। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে বিচার বিভাগকে নিজের স্বার্থে কাজে লাগিয়েছে, এই সরকারও সেই অপচেষ্টায় লিপ্ত। এজন্যই এরকম একটি অধ্যাদেশ যেখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে, সেটা বাদ দিচ্ছে তারা। এটা জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে রীতিমত গাদ্দারি।
একইভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশেও দুদক চেয়ারম্যান নিয়োগে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার বিধান করা হয়েছে। কিন্তু সেটি বাদ দিচ্ছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর মাধ্যমে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ২, ৬ ও ২৭ সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে তথ্য সহজলভ্য করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তথ্য কমিশনকে প্রবিধান দ্বারা একটি কেন্দ্রীয় ‘তথ্য ভান্ডার’ গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাদেশটিও বাতিল করছে বর্তমান সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ থেকেও সরে আসছে বিএনপি সরকার। টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং বিমান ভাড়ায় কারসাজি রোধে সুদৃঢ় আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে। বিমান ভাড়ায় কারসাজি ঠেকাতে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা আনা হয়েছিল এর মাধ্যমে। এয়ার অপারেটরদের কর্তৃপক্ষের নিকট সকল রুটের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়ার তালিকা আবশ্যিকভাবে দাখিলের বিধান রাখা হয়েছে। কৃত্রিম সংকট বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে সরাসরি হস্তক্ষেপের আইনি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-এর সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা সংযোজন করা হয়েছে। ভাড়া, ফি ও অন্যান্য চার্জ নির্ধারণে একটি স্বাধীন “বেসামরিক বিমান চলাচল অর্থনৈতিক কমিশন” গঠনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সাজার বিধান রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির দি ইনসাইটাকে বলেন, এই ধরনের একটি জবাবদিহিমূলক অধ্যাদেশ থেকে সরে এসে বিমান খাতে নিজেদের লুটপাটের বন্দোবস্ত করতে চায় বর্তমান সরকার। বিমানের যে দুরবস্থা তা চিরস্থায়ী করার একটি পায়তারা এটি।
বাতিল করা হচ্ছে ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫। ব্যাংক খাতে সংকট মোকাবিলায় একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল অধ্যাদেশটি। তফসিলি ব্যাংকের আর্থিক সংকট-যেমন মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব বা পদ্ধতিগত ঝুঁকি সমাধানের জন্য অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। রেজোল্যুশনের আওতায় আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা, আমানতকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ, সরকারি সহায়তা কমানো এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজন হলে প্রশাসক নিয়োগ, মূলধন বৃদ্ধি শেয়ার/সম্পদ/দায় হস্তান্তর, ব্রিজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, দায় হ্রাস বা রূপান্তরসহ বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারবে। লোকসানের ক্ষেত্রে দাবির অগ্রাধিকারের ক্রম মানা হবে। সুরক্ষিত আমানত অগ্রাধিকার পাবে। ব্যাংক পুনর্গঠন ও রেজোল্যুশন তহবিল গঠন, আমানত সুরক্ষা তহবিল ব্যবহার এবং বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে। যখন ব্যাংকিং খাত আগে থেকেই চাপে রয়েছে, এই আইন বাতিল হলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এছাড়া মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রণয়ন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। অধ্যাদেশটি এখনও কার্যকর হয়নি। এই অধ্যাদেশ থেকেও সরে আসছে বিএনপি সরকার। বাতিল করা হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ কার্যকর করার লক্ষ্যে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনই এসব আইন বাতিলের উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ। বাতিলের সিদ্ধান্ত দ্রুত হলেও বিকল্প কাঠামো স্পষ্ট নয়। এতে একটি শূন্যতা তৈরির আশঙ্কা থাকে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো কার্যকর আইনি কাঠামো ছাড়াই চলতে বাধ্য হয়। তারা বলছেন, আইন পরিবর্তন বা বাতিল করা সরকারের অধিকার। কিন্তু যখন সেই আইনগুলো জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তখন সিদ্ধান্তগুলো আরও সতর্ক ও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায়, এই পদক্ষেপগুলোকে অনেকেই জবাবদিহিতা থেকে সরে আসার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখবে। যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।
এই বিষয়ে সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, বিচারপতি নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতের সিদ্ধান্তে স্বাধীন বিচারবিভাগ প্রতিষ্ঠায় বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি এও বলেন, যে অধ্যাদেশগুলো এখনও আইনে রূপান্তর হয়নি, ধাপে ধাপে সেগুলো আইনে পরিণত করা হবে। এতে স্বাধীন বিচার বিভাগের অন্তরায় ঘটবে না।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক ‘বেঙ্গল কাউন্সিল’ সম্প্রতি এক পলিসি ব্রিফে সতর্ক করেছে যে, মানবাধিকার ও আইনের শাসনসংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো আইন হিসেবে প্রণয়নে বিলম্ব বা বাতিলের প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ব্রিফে উল্লেখ করা হয়, জবাবদিহি ও বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া যদি দুর্বল বা অস্বচ্ছ হয়, তবে তা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করবে না, বরং রাজনৈতিক মেরুকরণ ও জনঅবিশ্বাসও বাড়াবে। ফলে গুমবিরোধীসহ জবাবদিহিমূলক আইন থেকে সরে আসার যেকোনো পদক্ষেপ এই রূপান্তরের নৈতিক ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।





