অপরিকল্পিত, অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া দিতেই নাজেহাল সরকার
বাংলাদেশে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। কোনোটিই একটানা সারাবছর চালু কিংবা বন্ধ রাখা হয় না। কিন্তু খরচ নেয় পুরো বছরের। আইনী বেড়াজালে প্রশ্ন তোলারও সুযোগ নেই। সক্ষমতা ৩০ হাজার মেগাওয়াট। তবু কেন লোডশেডিং?
Although Bangladesh's power generation capacity stands at nearly 30,000 MW on paper, 10,000 to 12,000 MW of it remains unused in practice. Yet the government continues to pay huge capacity charges for this idle power, a burden stemming from lopsided deals signed in the past under the quick rental scheme and the Quick Enhancement of Electricity and Energy Supply (Special Provisions) Act. Bound by legal complications and long-term contracts, the current government is now forced to shoulder this heavy burden inherited from the power sector. Experts say many power plants were built without proper planning and without securing a guaranteed fuel supply. As a result, even though installed capacity far exceeds peak demand, ordinary consumers and industries are still not getting adequate electricity. Power, Energy and Mineral Resources Minister Iqbal Hasan Mahmud (Tuku) told The Insighta that many of these plants were built during the previous government's tenure without ensuring the fuel supply needed to run them, leaving them idle today. The current government, he said, is working to bring these plants back into operation.
খুলনার রূপসা নদীর তীরে দৃশ্যমান একটি বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। ৮০০ মেগাওয়াটের রূপসা কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এর মূল নির্মাণকাজও শেষের পথে। সুবিশাল এই অবকাঠামোর চাকা ঘুরলেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে প্রচুর বিদ্যুৎ। দূর হবে দক্ষিণাঞ্চলের অন্ধকার। আপতত বাইরে থেকে উজ্জ্বল এই সম্ভাবনার কথা মনে হলেও প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প চরম এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও এখন মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—যে গ্যাসে দিয়ে চলবে বিদ্যুত কেন্দ্রটি, সেই গ্যাসের নিশ্চয়তা কোথায়?
মাত্র ১০৭ দিনের পরীক্ষামূলক চালনার (কমিশনিং) জন্য সাময়িকভাবে গ্যাস দিতে সম্মত হয়েছে পেট্রোবাংলা। কিন্তু পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রটি যখন নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে, তখন সেখানে প্রতিনিয়ত গ্যাস সরবরাহ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে তা নিয়ে সরকার বা পেট্রোবাংলার কোনো চূড়ান্ত বা দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নেই।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাতীয় গ্যাস গ্রিডের একদম শেষ প্রান্তে (ডাউনস্ট্রিমে) অবস্থিত। ফলে দূর থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পর্যাপ্ত গ্যাস চাপ বজায় রেখে নিয়ে যাওয়াও একটি বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের মোট সরবরাহ এমনিতেই অনেক কম। জিটিসিএল-এর হিসাব অনুযায়ী, দেশে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত গ্যাস নেই- যে রূপসা কেন্দ্রে নতুন করে দেওয়া যাবে। ফলে রূপসায় গ্যাস দিতে গেলে সিরাজগঞ্জ বা ভেড়ামারার মতো অন্যান্য সচল বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমাতে হবে বা সাময়িকভাবে সেগুলো বন্ধ রাখতে হবে। একদিকে নতুন করে দেয়ার মতো গ্যাসের তীব্র অভাব, অন্যদিকে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকা- এই দুইয়ে মিলে চরম এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বিদ্যুতকেন্দ্রটি।
রূপসার মতো এমন অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র নানা ধরণের জটিলতায় অলস পড়ে আছে। কোনো কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বছরে এক আধবার চালু থাকে, বাকি পুরো সময় থাকে বন্ধ। ফলে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। অন্যদিকে এসব অলস পড়ে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়ে যেতে হচ্ছে সরকারকে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ২০২৬ সালের আগস্টের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৯,৫৯৩ মেগাওয়াট। আর কার্যকর বা সমন্বিত উৎপাদন সক্ষমতা ২৮,৭৯৩ মেগাওয়াট।
বিপিডিবির জ্বালানিভিত্তিক বিন্যাসে দেখা যায়, মোট সক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যুত কেন্দ্র গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক। গ্যাসের মাধ্যমে ১২,৪৭২ মেগাওয়াট (৪২.১৫%), কয়লার মাধ্যমে ৮,৪২৩ মেগাওয়াট (২৮.৪৬%), ফার্নেস অয়েল দিয়ে ৫,৬৪১ মেগাওয়াট (১৯.০৬%), আমদানি করা বিদ্যুৎ ১,১৬০ মেগাওয়াট (৩.৯২%), ডিজেল ৭৬৮ মেগাওয়াট (২.৬০%), সৌর বিদ্যুৎ ৭৯৭ মেগাওয়াট (২.৬৯%), হাইড্রো ২৩০ মেগাওয়াট (০.৭৮%) এবং বায়ু বিদ্যুৎ ৬২ মেগাওয়াট (০.২১%)।
যদিও ২০২৬ সালের জুলাই মাসের প্রতিদিনের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপাত্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাস্তব চিত্রটি পুরোপুরি ভিন্ন। ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে জুলাই মাসের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল ১৬ হাজার ৭১৬ দশমিক ৮৬ মেগাওয়াট। পুরো জুলাই মাসজুড়ে অধিকাংশ দিনই উৎপাদন ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের কোঠায় ঘোরাফেরা করেছে। ১লা জুলাই উৎপাদন হয়েছে ১৬ হাজার ১৫২ মেগাওয়াট, ১৫ জুলাই ১৬ হাজার ৩৪৩ মেগাওয়াট এবং ২৭ জুলাই ১৬ হাজার ০৮২ মেগাওয়াট। ১১ জুলাই উৎপাদনের পরিমাণ নেমে এসেছিল মাত্র ১৪ হাজার ৩৫৮ মেগাওয়াটে।
এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট জানান দিচ্ছে, দেশে দৈনিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার বিপরীতে উৎপাদনের পরিমাণ ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি নয়। ফলে ডিরেটেড সক্ষমতা (২৮,৭৯৩ মেগাওয়াট) অনুযায়ীও প্রায় ১২,০০০ মেগাওয়াট থেকে ১৩,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতা প্রতিদিন অলস পড়ে থাকে।
গত কয়েকদিনে জ্বালানি সংকটের কারণে পুরো বাংলাদেশজুড়ে লোডশেডিং পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকার তুলনায় ঢাকার বাইরে জেলা ও গ্রামঞ্চলে দিনে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং হচ্ছে। যার ফলে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ২,০০০ থেকে ৩,০০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইনস্টলড ক্যাপাসিটির অনুপাতে অব্যবহৃত এই বিপুল সক্ষমতার মূল দায় অতীতে প্রণীত বিশেষ আইনের অধীন সম্পাদিত চুক্তিগুলো। এসব চুক্তিতে শর্ত ছিল—বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নেয়া হোক বা না হোক, কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুত থাকার বিনিময়ে নির্ধারিত ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়া দিতেই হবে।
সরকারি-বেসরকারি মিলে দেশে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র-ই একটানা সারাবছর চালু কিংবা বন্ধ রাখা হয় না। ফলে সচল দেখিয়ে তার খরচ ও ব্যয় তুলে নিতে কোনো বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকে না। অপর দিকে, সরকার যেহেতু সারাবছর নিরবচ্ছিন্ন তেল- গ্যাস সরবরাহ করতে পারে না, তাই বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের ওপরেও সরাসরি কোনো দায় দেয়া যায় না। আর এই সবকিছুর বৈধতা দেয়া হয়েছিলো দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বিশেষ আইনের মাধ্যমে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ৪৪ হাজার কোটি টাকা ভাড়া দিয়েছে সরকার। চলমান অর্থবছরে যা ৪৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।
জ্বালানি ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাথে ১০, ১৫ বা ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হয়েছে, সেগুলোর মেয়াদ এখনও ৫ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বাকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা এবং দ্বিপাক্ষিক আর্থিক দায়বদ্ধতার কারণে এককভাবে কোনো চুক্তি হঠাৎ বাতিল করতে গেলে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে বিশাল বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
পরিণামে, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও হাজার হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আর এই আর্থিক লোকসানের বোঝা শেষ পর্যন্ত ভর্তুকির মাধ্যমে সরকারের ওপর এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকের ঘাড়ে এসে পড়ছে। পরিকল্পনাহীনভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে রাখা এবং নমনীয় চুক্তি না করার কারণে বিদ্যুৎ খাতের এই কাঠামোগত সংকট ও দেনার দায় আরও বহু বছর ধরে দেশকে বয়ে বেড়াতে হবে বলে মনে করছেন জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন দি ইনসাইটাকে বলেন, দেশে বহু বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ রেখে অলস বসে থাকলেও সেগুলোকে নিয়মিত ক্যাপাসিটি চার্জ বা সক্ষমতা ব্যয় মেটাতে হচ্ছে। সর্বোচ্চ চাহিদার চেয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ ও শিল্পখাত পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এবং জ্বালানি প্রাপ্তির বিষয় নিশ্চিত না করেই অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। যেমন—বাস্তবসম্মত গ্যাস সরবরাহ বা পাইপলাইনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় রূপপুরের মতো বড় প্রকল্পেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি জোগানো বা কমিশনিং নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৮,০০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদনের তৈরি বা অনুমোদিত সক্ষমতা ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, সেই অনুযায়ী বিদ্যুতের চাহিদা ২৫,০০০ মেগাওয়াট ছুঁইছুঁই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সেই গতি থমকে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ১২,০০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি হয়ে বসে আছে, যার কারণে তৈরি হয়েছে বিশাল ক্যাপাসিটি গ্যাপ।
ড. ইজাজ হোসেন বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ডলার সংকট ও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে পর্যাপ্ত জ্বালানি (যেমন গ্যাস বা তেল) কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান বিদ্যুতের চাহিদাও পুরোপুরি মেটানো যাচ্ছে না। ফার্নেস অয়েল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালিয়ে লোডশেডিং কমানোর সুযোগ থাকলেও, সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ও মূল্য অনেক বেড়ে যায়, যা বহন করা সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে তৎকালীন সরকারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হয়তো ছিল দ্রুত শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। কিন্তু অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও জ্বালানি জোগানের সংযোগ না থাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হলেও সার্বিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এটি নীতি নির্ধারণী পর্যায় ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার চরম ব্যর্থতা।
অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং কেমিক্যাল অ্যান্ড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ম. তামিম দি ইনসাইটাকে বলেন, বাংলাদেশী পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দেশের মোট চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও, প্রাথমিক জ্বালানির তীব্র সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে লোডশেডিং বাড়ছে, অন্যদিকে কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রাখার কারণে ক্যাপাসিটি চার্জ বা পেমেন্টের বোঝা বৃদ্ধি পেয়ে দেশের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই সংকটের মূল কারণ হলো নিজস্ব জ্বালানির অপ্রতুলতা এবং আমদানিনির্ভরতা, যা মেটাতে প্রচুর অর্থসংস্থানের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি, পূর্বের জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধান না করে একই জ্বালানি-নির্ভর নতুন পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করায় সমস্যাটি আরো ঘনীভূত হয়েছে। ফলে নতুন ও পুরনো উভয় ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রই জ্বালানির অভাবে বর্তমানে অকার্যকর বা বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।
বিদ্যুত খাতের বর্তমান সংকট নিয়ে দি ইনসাইটার সাথে কথা হয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু)’র সাথে। তিনি বলছেন, এই সংকটের মূল দায় আওয়ামী লীগ সরকারের ।
ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) বলেন, বিদ্যুত কেন্দ্র করা এক জিনিস, কিন্তু বিদ্যুত কেন্দ্র করার আগে তার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি বা জ্বালানি নিশ্চিত করতে হয়। বিগত সরকারের আমলে এসব বিষয় নিশ্চিত না করেই বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরি করায় সেগুলো এখন বেকার বসে আছে। আমরা মাত্র কয়েক মাস হলো দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। এগুলোকে সচল করার জন্য আমরা নানা ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি। আশা করি আমরা যখন কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারব। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পুনরায় চালু করতে গেলে তা সময়সাপেক্ষ বিষয় হবে। ততদিন পর্যন্ত এই পাওয়ার স্টেশনগুলোকে এভাবেই ফেলে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে মাত্র ছয় মাস হলো। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘ ১৮ বছরের সমস্যা ছয় মাসে সমাধান করে ফেলা খুবই কঠিন। আর রাতারাতি তা ঠিক করার মতো আমাদের হাতে কোনো জাদুও নেই।
ইকবাল মাহমুদ টুকু বলেন, রূপসাতে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু সেগুলোতে যে গ্যাস সরবরাহ করা হবে- তার কোনো ব্যবস্থাই করে রেখে যাওয়া হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনও হচ্ছে না।



