কোচ জাকির মৃত্যু, ঘরোয়া ক্রিকেটে চিকিৎসা সংকট, এবং মিডিয়ার ভূমিকায় প্রশ্ন
কোচ জাকির মৃত্যু ও ঘরোয়া ক্রিকেটে বারবার অসুস্থতার ঘটনা বিসিবির মেডিকেল টিমের ব্যর্থতা কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। এর সঙ্গে মিডিয়ার দায়িত্বহীন সাংবাদিকতা কি এই সংকট ঢাকছে?
From on-field collapses to player deaths, the string of medical emergencies in Bangladesh cricket is alarming. This article uncovers potential systemic failures in health safeguards and rushed scheduling, questioning why the media focuses on tragedy without probing deeper into the causes.
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে একের পর এক হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া এখন আর বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। যার সর্বশেষ উদাহরণ, গত ২৭ ডিসেম্বর সিলেটে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-বিপিএল এর ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এসব ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, মাঠে আদৌ কতটা প্রস্তুত আমাদের স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাপনা। বিসিবি আইসিসির নির্দেশিকা মানার কথা বললেও বাস্তবে অনেক ভেন্যুতেই পর্যাপ্ত মেডিক্যাল টিম, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সরঞ্জাম থাকে না। সংকুচিত ও বিরতিহীন ম্যাচ সূচি পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম কর্তৃপক্ষের বক্তব্যই তুলে ধরে, অনুসন্ধানী প্রশ্ন তোলে না। এই লেখায় ঘরোয়া ক্রিকেটের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র ও এর আড়ালে থাকা কাঠামোগত সংকট খতিয়ে দেখা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরুর পরের দিন। সময়টা তখন প্রায় দুপুর দেড়টা। মোবাইল নোটিফিকেশনে সংবাদ আসলো ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন! সংবাদটা দেখার পর কিছুক্ষণ শুধু শিরোনামটার দিকেই তাকিয়ে থাকলাম, বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল! গতবছর এই ধরনের শিরোনাম আরও পাঁচবার দেখেছি, যার মধ্যে চারটাই ছিল ঘরোয়া ক্রিকেটের!
যাহোক, খবরটার সত্যতা যাচাইয়ে প্রথমেই তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, তাদের অফিসিয়াল এই সাইটটা আপডেটেড না! এখানে সব ২০২৫ সালের তথ্য! এরপরই তাদের ফেসবুকে পেজে নজর দিলাম। তাদের পেজে তখন খেলার পাওয়ার প্লে’র স্কোর। আবার কিছুক্ষণ পর চেক করলাম, দেখলাম, ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটা থেকে তখনও কোনো খবর পোস্ট করা হয়নি। দুপুর প্রায় ২টা বাজবে, তখন তাদের পেজে পোস্ট দেখলাম, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, ঢাকা ক্যাপিটালস পরিবারের প্রিয় সহকারী কোচ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন’।
মনের ভেতরে জড়ো হতে থাকে হাজারো প্রশ্ন। কারণ জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) বরিশাল বিভাগের ফিজিও হাসান আহমেদের মাঠেই মারা যাওয়া, ঢাকা প্রিমিয়িার লিগে (ডিপিএল) মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের তারকা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের হার্ট অ্যাটাক, জাতীয় ক্রিকেট লিগ খেলার সময় বরিশাল দলের ব্যাটসম্যান ফজলে মাহমুদ রাব্বি ও ডিপিএলের মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং অগ্রণী ব্যাংক ম্যাচের টস করার পর আম্পায়ার গাজী সোহেলের অসুস্থ হয়ে পড়া, এমনকি সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্টে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইকরম চৌধুরীর হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু, এগুলো প্রত্যেকটাই সাম্প্রতিক ঘটনা! মৃত্যু, কিংবা শারীরিক অসুস্থতার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই, এটা সত্য। কিন্তু একইভাবে খেলার আগে, কিংবা খেলা চলাকালীন একই পরিমন্ডলের মধ্যে ঘটা এই ঘটনাগুলো কি শুধুই দুর্ঘটনা? নিছকই কাকতালমাত্র? নাকি এটা আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের সিস্টেমেটিক সমস্যার পরিণতি?
সংবাদটা বিভিন্ন সাইট থেকে পড়ে বোঝার চেষ্টা করলাম, যে আসলে কি ঘটেছিল। বিভিন্ন মিডিয়া সূত্র থেকে জানতে পারলাম, টসের পর দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠে ওয়ার্ম আপ করছিলেন। এ সময় সেখানে থাকা কোচ জাকি ‘হুট করে’, কোনো কোনো মিডিয়ায় ‘হঠাৎই’ মাঠে ‘লুটিয়ে’ পড়েন। ‘তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর দেওয়া হয় তাকে’। আর কোথাও কোথাও আছে ‘সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঘিরে জড়ো হন টিম স্টাফরা’ আবার কোথাও আছে ‘দলের ফিজিও’ তাকে সিপিআর দেন। এরপরে ‘দ্রুত’ অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মিডিয়ার ব্যবহৃত এই শব্দগুলো দিয়ে ঘটনাটাকে খুবই স্বাভাবিক বলেই মনে হয়।
‘হঠাৎ’, ‘হুট করে’ প্রভৃতি বলা হলে ঘটনাটি একেবারেই ব্যক্তিগত শারীরিক দুর্বলতার ফল বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। একইভাবে ‘সঙ্গে সঙ্গে তাকে সিপিআর দেওয়া হয়’ বাক্যটি শুনতে দায়িত্বশীল ব্যবস্থারও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু কোথাও কোথাও ‘আশপাশ থেকে দ্রুতই ছুটে আসেন সবাই’, আবার কোনো কোনো জায়গায় ‘দলের ফিজিও’- এই শব্দগুলো ঘটনাটিকে বিভ্রান্তিকর বলেও সন্দেহ করার কারণও তৈরি হয়। মাঠের এই চিকিৎসা বলতে আসলে কী বোঝানো হচ্ছে? প্রশিক্ষিত কার্ডিয়াক মেডিক্যাল টিম, নাকি মাঠে উপস্থিত সহকর্মী বা কোচের প্রাথমিক সহায়তা, সেটা স্পষ্ট করা হয় না।
মোটাদাগে এই দুই প্রসঙ্গকে ভিত্তি করে ঘরোয়া ক্রিকেট পরিচালনার সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) খেলোয়াড়, কোচ ও দলের অন্যান্য সদস্যদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের কাঠামো, নীতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করে- তা খতিয়ে দেখাই হবে এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। একইসঙ্গে দেশের মিডিয়াগুলো কীভাবে যথাযথ অনুসন্ধান ছাড়াই এই বিদ্যমান সিস্টেমের ভাষা ও কাঠামো পুনরুৎপাদনে ভূমিকা রাখছে, সেদিকেও নজর দেওয়া হবে।
আইসিসির নির্দেশিকা চর্চার দাবি, বাস্তবে বিসিবির বাস্তবায়ন কতটা?
মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনার ক্ষেত্রে বারবার দাবি করে যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণ করেই তারা স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টা পরিচালনা করে। এই দাবির সূত্র ধরেই আইসিসির মেডিক্যাল নির্দেশিকায় খেলোয়াড় এবং ম্যাচ-অফিসিয়ালদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কী কী ধরনের প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখার চেষ্টা করি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)-এর মেডিকেল নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও সিরিজে একজন প্রধান মেডিকেল অফিসারের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল থাকবে। এই চিকিৎসক দল ম্যাচ শুরুর আগে ও পরে মাঠের সব মেডিকেল সরঞ্জাম, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি ব্যবস্থার প্রস্তুতি যাচাই করবে। পাশাপাশি মাঠে একটি কার্যকর মেডিক্যাল রুম, অক্সিজেন, অটোমেটিক এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর (সংক্ষেপে এএফডি হলো একটি বহনযোগ্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে) ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধসহ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত অ্যাম্বুলেন্স থাকতে হবে, যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া যায়।
এই নির্দেশিকায় খেলোয়াড় এবং অফিসিয়ালদের পূর্ববর্তী শারীরিক অবস্থা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি যাচাইয়ের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া আছে। ম্যাচের দিন খেলা শুরুর আগে আম্পায়ার এবং অন্যান্য ম্যাচ অফিশিয়ালদের অ্যালার্জি বা আগে থেকে থাকা কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কি-না, তা ম্যাচের দিনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারকে জেনে নিতে হবে। আর এটা দলের মেডিক্যাল টিমকে জানিয়ে রাখতে হবে। প্রতিটি দলের নিজস্ব মেডিক্যাল প্রতিনিধির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো খেলা শুরুর এক ঘণ্টা আগে কোনো খেলোয়াড়ের বিশেষ কোনো মেডিক্যাল ঝুঁকি (যেমন: ডায়াবেটিস বা কোনো বিশেষ ওষুধের প্রতি অ্যালার্জি) থাকলে তা আগেই জানিয়ে দিতে হবে। এমনকি ভিন্ন দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রয়োজনীয় টিকাদান সম্পর্কে আগাম তথ্য প্রদান করবে।
এই নির্দেশনাগুলো বিসিবি আসলে ঘরোয়া, কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্ট চলাকালীন কতটা অনুসরণ করে, এ সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে কোথাও কোনো লিখিত কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
তবে ফিজিও হাসান আহমেদের মৃত্যুসহ এধরনের আরও কিছু ঘটনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)-এর একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি নজরে এসেছিল। সেইসময় মোটাদাগে তারা দুইটা দাবি করেছিলেন: এক। প্রতিটা ভেন্যুতে একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকা এবং দুই। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এই দাবিগুলোর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছিলেন, ক্রিকেট মাঠ থেকে হাসপাতালে দূরত্বকে।
এই বিজ্ঞপ্তির পরপরই বিসিবিও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কী ধরনের পরিকল্পনার কথা ভাবছে, সে সম্পর্কিত খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়। সেসময় বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলমের বক্তব্য থেকে জানা যায়, ঢাকার বাইরে মাঠের কাছাকাছি ভালো কোনো হাসপাতাল নেই। এ কারণে তারা ঢাকার বাইরে যেসব জায়গায় ঘরোয়া ক্রিকেট হয় সেসব জায়গায় মেডিক্যাল সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে। আর এই চিকিৎসা সেবা কেবল ক্রিকেটারদের জন্য নয়, বরং সাপোর্ট স্টাফ, কোচ এবং মাঠে উপস্থিত সাংবাদিকদের জন্যও প্রযোজ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই বিষয়টা থেকে অন্তত এটা আঁচ করা যায় যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিমন্ডলে পা রাখার প্রায় ৪০ বছরেও আমাদের দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে একটা পূর্ণাঙ্গ, কাঠামোবদ্ধ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালু হয়নি।
ম্যাচের দিনে ভেন্যুভিত্তিক ‘স্থানীয় সহায়তায়’ নির্ভর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা!
প্রশ্ন উঠাটা খুবই স্বাভাবিক যে তাহলে কোনো ঘরোয়া, এমনকি কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট চলার সময় স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়? বিসিবির ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, এমনকি কোনো সংবাদমাধ্যমে কোনো ধরনের প্রাতবেদন না পেয়ে যোগাযোগ করলাম বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীর সাথে। তার বক্তব্যে যেটা জানা গেল: আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব খেলায় আইসিসির গাইডলাইন অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, মেডিক্যাল সাপোর্ট দেওয়া হয়। বিভাগীয় পর্যায়েও একই সুবিধা দেওয়া হয়। লোকাল হেল্পের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, মেডিক্যাল টিমের ব্যবস্থা করা হয়। সিভিল সার্জেন্ট বিভাগীয় পর্যায়ের খেলাগুলোতে এই সাপোর্ট দেয়। তাদের পক্ষে সম্ভব না হলে ফায়ার সার্ভিস এই কাজ করে।
টুর্নামেন্ট-ওয়াইজভাবে ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে বিসিবি অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, মেডিক্যাল টিম প্রোভাইড করে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব লিগ হলেও বিসিবি এই টুর্নামেন্ট চলাকালীনও একটা অ্যাম্বুলেন্স প্রোভাইড করে। তবে জেলা-পর্যায়ে বয়সভিত্তিক খেলাগুলোতে বিসিবি এই সুবিধা দিতে পারে না। এজন্য এখানে টিমের সাথে একজন ফিজিও দেওয়া হয়ে থাকে। সমস্যা হলে কল করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। আর বিভাগীয় পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতালে সাথে বিসিবির চুক্তি করা আছে। অসুস্থ হলে সেখানেই চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
দেবাশীষ চৌধুরীর বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, দলগুলোর সাথে কোনো মেডিক্যাল টিম, ডাক্তার থাকে না। ডাক্তার থাকে না এজন্য জেলা পর্যায়ে দলের সাথে একজন করে ফিজিও’র ব্যবস্থাও করা হয়। সুতরাং, ঘরোয়া ক্রিকেটের দলগুলোর সাথে একজন ফিজিও থাকে কি না- এটা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। তাঁর এই বক্তব্যকে পাটাতন হিসেবে ধরে বিভাগীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা সিভিল সার্জেন্ট অফিসে যোগাযোগ করি। কথা বলি চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বগুড়া এবং খুলনা অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে। টুর্নামেন্ট চলাকালে তারা কীভাবে এই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে, সে বিষয়ে তাদের বক্তব্য ও তথ্য থেকে যা জানা যায়:
ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশের সঙ্গে একটা মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিভিল সার্জন কার্যালয়কে একটা মেডিক্যাল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতেই সিভিল সার্জন কার্যালয় উপজেলা পর্যায় থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি মেডিক্যাল টিম নিশ্চিত করে। এই মেডিক্যাল টিম পুরো ম্যাচ চলাকালীন মাঠে দায়িত্ব পালন করে। এই ব্যবস্থার আওতায় পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই মেডিক্যাল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স মাঠে দায়িত্ব পালন করে। তবে কখনো কখনো ডাক্তার না থাকলে মেডিকেল টিমের সাথে মেডিকেল অফিসার পাঠানো হয়।
আরও জানা যায়, একটা মেডিক্যাল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে থাকতে পারে সিলেট এবং চট্টগ্রামে। কিন্তু এই ব্যবস্থা বগুড়া এবং খুলনায় সম্ভব হয় না। সেখানে বিসিবির আয়োজকদের দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রয়োজন হলে সিভিল সার্জন কার্যালয়কে জানান এবং তখন তারা কল করার উপর ভিত্তি করে মেডিক্যাল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স মাঠে পাঠান।
তাদের ভাষ্যে কিছুটা অভিযোগের সুরে যা জানা গেল:
যদিও মেডিকেল টিম পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মাঠের বাইরে দায়িত্বে থাকেন, তবুও তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো কক্ষ, বাথরুম বা খাবারের ব্যবস্থা থাকে না। ফলে পুরো এই টিমকে সাধারণত অ্যাম্বুলেন্সেই অবস্থান করতে হয়। এ ধরনের ব্যবস্থা না থাকার দরুণ নারী ডাক্তারদের সেখানে দায়িত্বে পাঠানোও সম্ভব হয় না।
তাদের থেকে আরও জানা যায়:
তাদের অভিযোগের পাল্টা হিসেবে বিসিবি যুক্তি দেয়, পুলিশ যেমন মাঠের বাইরে দায়িত্ব পালন করে, ঠিক তেমনি ডাক্তারকেও ঠিক একই ভূমিকা পালন করতে হবে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা প্রশ্ন তোলেন:
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে প্রতিটা দলের সাথে একটা মেডিক্যাল টিম থাকার কথা থাকলেও কেন তা সবসময় নিশ্চিত করা হয় না? আবার স্টেডিয়াম তো সিটি কর্পোরেশনের অধীনে। কিন্তু কেন সিটি কর্পোরেশন এই দায়িত্ব নেয় না?
উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রামের ১৫টা উপজেলায় ১৫টা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪টা অ্যাম্বুলেন্স আছে, সিলেটের ১৭টা উপজেলায় ১৭টা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫টা অ্যাম্বুলেন্স আছে, বগুড়ায় ১২উপজেলায় ১১ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১টা অ্যাম্বুলেন্স আছে এবং খুলনায় নয়টি উপজেলায় নয়টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়টা অ্যাম্বুলেন্স আছে। আর এই অ্যাম্বুলেন্সগুলোর কোনোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়। সংখ্যা দেখে এটা খুব সহজেই বোঝা যায় যে, কোনো উপজেলাতেই বাড়তি কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। অর্থাৎ পুরো দিনের জন্য একটা অ্যাম্বুলেন্সকে খেলার মাঠে রাখার অর্থ হলো সেই উপজেলার রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা ঝুঁকিতে রাখা। রাজশাহী বিভাগের বিষয়টা একটু ভিন্ন। এখানে নয়টা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়টা অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও তারা এই সুবিধা বিসিবিকে প্রদান করে না। এলাকার ফায়ার সার্ভিসের কাছে থাকা দুইটা অ্যাম্বুলেন্সের একটা তারা খেলার মাঠের জন্য প্রস্তুত রাখে।
আবার খেলোয়াড়দের ইনজুরি মূলত খেলা-সংক্রান্ত হলেও, এই ধরনের ক্রীড়া-নির্দিষ্ট চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো কোনো বিভাগীয় পর্যায়ের বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল নেই। আবার বিসিবি নির্দিষ্ট কিছু মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও, সে বিষয়টি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও স্পষ্ট নয় বা জানা থাকে না। তবে বগুড়া জেলায় খেলোয়াড়দের জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহম্মদ আলী হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়।
বিকেন্দ্রীকরণহীন সংকুচিত ম্যাচ সুচি
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের জরাজীর্ণ স্বাস্থ্যসেবা ও সাংগঠনিক দৈন্যতার পেছনে এর অতি-সংকুচিত ও অপরিকল্পিত সূচির দায় উপেক্ষা করা যায় না। বাণিজ্যিক স্বার্থে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের উইন্ডোতে টুর্নামেন্ট শেষ করার যে তাগাদা, তার ফলাফলস্বরূপই উপেক্ষিত হচ্ছে মাঠের এই স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নিরাপত্তা। একই ভেন্যুতে বিরতিহীন ম্যাচ আয়োজনের ফলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সকালের ম্যাচ শেষ হতে না হতেই পরবর্তী ম্যাচ শুরুর ঘন্টা বেজে ওঠে! মাঝে যে এক ঘণ্টারও কম সময় পাওয়া যায়, তা না মাঠ সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত, না দায়িত্বরত মেডিক্যাল টিমের শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামের জন্য অনুকূল। চলতি বিপিএলের ম্যাচ সুচিতেও এই প্রবণতার ব্যতিক্রম ঘটেনি। মোট ৩৪টা খেলার মধ্যে ২৪টা অনুষ্ঠিত হয় সিলেটে। এবং প্রতিদিন দুইটা করে খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র এক ঘন্টা। এই ধরনের শিডিউল ঘনত্ব কেবল একটি ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি নয়, বরং এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা যা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
এই বিরতিহীন সূচির সবচেয়ে বড় আঘাত আসে স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার ওপর। বাস্তব চিত্রটা হলো, একটি ভেন্যুর জন্য বিসিবি সাধারণত একটি মাত্র মেডিক্যাল টিম ও একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ রাখে। যদি কোনো খেলোয়াড় গুরুতর আহত হন এবং অ্যাম্বুলেন্সটি তাকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে মাঠ ত্যাগ করে, তবে পরবর্তী ম্যাচ শুরু হলেও মাঠে কোনো বাড়তি অ্যাম্বুলেন্স থাকে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতেও খেলা চালিয়ে যাওয়া পুরো ভেন্যুকেই এক চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। এছাড়া, বিরতিহীন দায়িত্ব পালনের ফলে মেডিক্যাল কর্মীদের অবসাদ দূর করার জন্য নূন্যতম সময় কিংবা অক্সিজেন বা জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামগুলোও পুনরায় প্রস্তুত করার পর্যাপ্ত সময় না থাকা- পুরো সেবা ব্যবস্থাকেই নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত করে।
বিসিবি মূলত বাণিজ্যিক লজিস্টিক, সম্প্রচার সুবিধা এবং প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিপিএল বা এনসিএলের মতো টুর্নামেন্টগুলো পর্বভিত্তিক আয়োজন করে থাকে। এই পদ্ধতিতে ঢাকা, সিলেট বা চট্টগ্রামের মতো নির্দিষ্ট ভেন্যুগুলোতে টানা ম্যাচ আয়োজন করা হয়। এতে করে সম্প্রচার সরঞ্জাম বারবার স্থানান্তরের ঝক্কি ও খরচ কমানো যায়। যদিও কাগজে-কলমে এই ব্যবস্থাটি গ্রাউন্ডসম্যানদের পিচ রোটেশন এবং খেলোয়াড়দের যাতায়াতের ক্লান্তি কমানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। একই মাঠে এই বিরামহীন ম্যাচের আধিক্য মাঠের স্বাভাবিক সক্ষমতার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে। এবং পরোক্ষভাবে তা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও মাঠের সার্বিক শৃঙ্খলার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
আসলে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রায় সব বড় টুর্নামেন্টই বিভিন্ন ভেন্যুতে ছড়িয়ে আয়োজিত হলেও শিডিউলগত এই অপরিকল্পিত ঘনত্বই বড় সংকট তৈরি করছে। বিপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্টে বিদেশি খেলোয়াড় ও সম্প্রচারের বিশাল বহরের কারণে পর্বভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও, এনসিএল বা ডিপিএলের মতো আসরগুলোতে বিরতিহীন ম্যাচ আয়োজন করা হয়। এর ফলে একদিকে যেমন লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা জটিল হয়ে পড়ে, অন্যদিকে জরুরি প্রস্তুতির অবকাশ না থাকায় সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
যে সংবাদ প্রশ্ন তোলে না: সাংবাদিকতা যেন অনুসন্ধানহীন অনুমিত অনুমতির প্রকাশক
সবচেয়ে হতবাক করা বিষয় হলো, গতবছর এধরনের ছয়টা ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে দুইটা মৃত্যুও আছে। কিন্তু এই বিষয়টা আমাদের মিডিয়াকে মোটেও ভাবায়নি! মিডিয়ায় শুধু মৃত্যু সংবাদগুলোই আমরা প্রকাশ হতে দেখি। বারবার একই ধরনের ঘটা ঘটনাগুলো নিয়ে কোনো মিডিয়া কোনো প্রশ্ন তোলেনি। এমনকি প্রতিটা মৃত্যু সংবাদকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন এগুলো প্রতিটাই এক একটা দুর্ঘটনামাত্র!
একমাত্র খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে খুলনার বিপক্ষে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ম্যাচ চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগের ফিজিও ফিজিও হাসান মারা গেলে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়। সেখানে তারা দেশের সকল ক্রিকেট মাঠে জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু এবং প্রতিটি ভেন্যুতে একটি অ্যাম্বুলেন্স দাবি করেন। সেই সময় বিভিন্ন মিডিয়ায় এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিটাই শুধু প্রকাশ পেতে দেখা যায়। অথচ এই তথ্যটাকে কেন্দ্র করেও তারা কোনো ধরনের অনুসন্ধান পরিচালনা করেনি। বলাই যায়, মিডিয়া যেন অনুমিত অনুমতির প্রকাশক হিসেবে কাজ করছে!
প্রায়ই দেখা যায়, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই মিডিয়াগুলো প্রায় একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে খবর প্রকাশ করে: ‘হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন’, ‘তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়’, ‘দলের মেডিকেল স্টাফ’ দ্রুত সাড়া দেন প্রভৃতি। এই ভাষাগুলো অডিয়েন্সের মননে একটা সুশৃঙ্খল চিকিৎসা ব্যবস্থার চিত্রই উপস্থাপন করে। মাহবুব আলী জাকির মৃত্যুর খবরগুলো এটার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ বটে। প্রায় সব সংবাদেই বলা হলো ‘হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন’, ‘সিপিআর দেওয়া হয়’, ‘দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়’, ‘দলের মেডিকেল স্টাফ তৎপর ছিলেন’। কিন্তু কোনো সংবাদেই প্রশ্ন তোলা হলো না, মাঠে আদৌ কোনো পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল টিম ছিল কি-না, দলটির নিজস্ব ডাক্তার বা কার্ডিয়াক ইমার্জেন্সি প্রোটোকল ছিল কি-না, মেডিকেল স্টাফরা প্রশিক্ষিত কি-না, অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত অবস্থায় ছিল কি-না, থাকলে সেটা এসি কি-না, কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রোটোকল মানা হয়েছে কি-না, মাঠের প্রাথমিক চিকিৎসায় কত মিনিট দেরি হয়েছিল, কিংবা এই মৃত্যুর পেছনে ঘরোয়া ক্রিকেটের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর কোনো ভূমিকা আছে কি-না, এই মৌলিক প্রশ্নগুলো সংবাদে সবসময়ই অনুপস্থিত।
যেটুকুও বা সংবাদ মিডিয়ায় আসে সেগুলোর অধিকাংশই তৈরি হয় বিসিবি বা সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই না করেই সেই কর্তৃপক্ষের কণ্ঠ বা ভাষাকে পুনরুৎপাদন করা হয়। ফলে মিডিয়া কোনোভাবেই নজরদারির দায়িত্ব পালন করে না। অর্থাৎ বরাবরের মতোই মিডিয়া এবারও ‘ঘটনা’-টারই শুধু রিপোর্ট করেছে, কিন্তু সেই ঘটনার পেছনের ‘কারণ’ নিয়ে অনুসন্ধান করেনি। সাথে তাদের ভাষাকাঠামো জাকির মৃত্যুকেও একটা আকস্মিক দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে। একইধরনের ষষ্ঠ ঘটনার পরও ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রকৃত স্বাস্থ্যব্যবস্থার চিত্র এবারও আড়ালেই থেকে গেল। বলা বাহুল্য, কোনো ধরনের অনুসন্ধান ছাড়াই মিডিয়াগুলোও যেন ঘরোয়া ক্রিকেটের সংকটপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোকে টিকিয়ে রাখার বিদ্যমান সিস্টেমের শরিক হয়ে ওঠে।
লেখক পরিচিতি
বর্তমানে কর্মরত আছেন জাতীয় দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এ জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক হিসেবে। স্নাতকোত্তর ও স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে। তার আগ্রহের জায়গা হলো জেনারেশন-মিডিয়া রিলেশনশিপ, মিডিয়া-স্পোর্টস আন্তঃসম্পর্ক, সামাজিক মিডিয়া এবং সংবাদ কনসেপ্ট নিয়ে। লেখকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ইমেইল করুন এই ঠিকানায়: jannatulruhi@gmail.com
Disclaimer: The views expressed in this article are the author’s own and do not necessarily reflect The Insighta’s editorial stance. However, any errors in the stated facts or figures may be corrected if supported by verifiable evidence.





লেখা টা খুবই সময় উপযোগী
দায়িত্ব অবহেলা এখন ক্রিকেট বোর্ডের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপু অনেক সুন্দর লেখনী। ধন্যবাদ আপনাকে।