ইউনূস সরকার ১০০ তে ১১০
ইউনূস সরকার পুলিশ ভেঙে পড়া ও অস্থিরতার মধ্যে গুম-ক্রসফায়ার ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা ধীরে ফিরিয়েছে, ডলার-দাম স্থিতিশীল ও রিজার্ভ বাড়িয়েছে, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করেছে।
The article argues that the Yunus government performed unusually well under extreme collapse and political pressure. It restored law and order without enforced disappearances or crossfire, stabilized the dollar and inflation, boosted reserves through stronger controls, managed minority security, and delivered a largely peaceful election despite hostile bureaucracy and weak party support.
সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার ড. ইউনূস সরকারের সাফল্য–ব্যর্থতা পর্যালোচনা করে ১৭ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তিনি লিখেছেন, অস্থিরতা ও পুলিশ ভেঙে পড়ার মতো সংকটের মধ্যেও এই সরকার গুম-ক্রসফায়ার ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার চেষ্টা করেছে এবং অর্থনীতিকে ধসের হাত থেকে রক্ষা করেছে। তার লেখাটি ইনসাইটার পাঠকদের জন্যও এখানে তুলে ধরা হলো।
সরকারের প্রশংসা উচিত মনে করেনি বলে, ড. ইউনূসের বিদায়ের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। দ্বিধা ছাড়াই বলছি, আমাদের দেখা সবচেয়ে সফল সরকার ইউনূস সরকার। যে পরিস্থিতিতে প্রফেসর সাহেব ক্ষমতায় এসেছিলেন, এরচেয়ে ভালো সম্ভব ছিল না। শত সীমাবদ্ধতার মধ্যে যেটুকু করেছেন, তাতে বাংলাদেশ গৃহযুদ্ধ, আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং অর্থনীতির নিশ্চিত ধ্বস এড়াতে পেরেছে।
অধ্যাপক ইউনূসের বড় সমালোচনা আইন শৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। এ নিয়ে সমালোচনা সঙ্গে ৫ আগস্ট থেকে পরের কয়েকদিনের পরিস্থিতি বিবেচনা করা উচিত। দেশের ৬২৯টি থানার মধ্যে ৪৬০টি ধ্বংস হয়েছিল। সারাদেশের সব থানা পরিত্যক্ত করে পুলিশ পালিয়ে গিয়েছিল। এই রকম ভয়াবহ অবস্থা মুক্তিযুদ্ধ বা এর পরবর্তী সময়েও সময়েও হয়নি।
৫ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত দেশে পুলিশ ছিল না! পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রে এই পরিস্থিতি কল্পনা করা যায় না। গত বছর আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলের সময়, পুলিশ ঘাটতিতে ভয়াবহ লুটপাট হয়। কিন্তু বাংলাদেশে যা ক্ষতি হয়েছিল, তা পরিস্থিতি বিবেচনায় কমই ছিল। অভ্যুত্থানের আটদিন পর পুলিশ ফিরলেও, এখনও পুরোপুরি সক্রিয় নয়। হয়তো আরও সময় লাগবে।
ড. ইউনূসের সফলতা হল, এইরকম পরিস্থিতিতেও গুম-ক্রসফায়ার না করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করার চেষ্টা করেছেন। ধীরে ধীরে তা হয়েছেও। গোপালগঞ্জ ও ঈশ্বরদীতে গুলিতে ছয়জন নিহত এবং ঢাকার আশুলিয়া সাউন্ড গ্রেনেডে একজনের মৃত্যু ছাড়া, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বলপ্রয়োগে ১৮ মাসে প্রাণ যায়নি। ৭ জনের প্রাণহানীও গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু যে নৈরাজ্য দেশে ছিল, সেই তুলনায় হতাহতের সংখ্যা কমই।
সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে ‘মব’ নিয়ে। দেশের ভঙ্গুর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল, তা দিয়ে এই দঙ্গল ঠেকানো সম্ভব ছিল না প্রথম কয়েক মাসে। সংবাদপত্র অফিসে আগুন ইউনূস সরকারের একটি ব্যর্থতা হিসেবেই থাকবে। কিন্তু ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের অভিজ্ঞতা না থাকায়, শুধু সেনাবাহিনীকে দিয়ে আইন শৃঙ্খলা এর চেয়ে ভালো নিয়ন্ত্রণ সম্ভব ছিল না। কারণ, প্রশাসন ও কর্মচারীদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
গত দেড় বছরে সরকারি কর্মচারীরা দাবিদাওয়া নিয়ে যে পরিমাণ আইন ভঙ্গ, হঠকারিতা, স্বেচ্ছাচারিতা করেছে- তা ইতিহাসে বিরল। কর্মচারীরা সরকারের গলায় পাড়া দিয়ে দাবি আদায়ের সুযোগ সর্বোচ্চ নিয়েছে। দিনের পর দিন রাস্তা বন্ধ করেছে। মবের দোষ যতই ছাত্রদের হোক, সবচেয়ে বেশি রাস্তা বন্ধ করে ভোগান্তি দিয়েছে কর্মচারীরা। গ্যারান্টি দিতে পারি, কর্মচারীরা আর রাস্তায় নামার সাহস পাবে না। ইউনূসের রাজনৈতিক শক্তি ছিল না বলেই পেরেছিল।
ইউনূস সরকার বোধহয় দুনিয়ার একমাত্র সরকার, যার গোয়েন্দা সংস্থা তার বিরুদ্ধে ছিল। এরপরও যে দেশ চলেছে, এটাই অষ্টম আশ্চর্য। প্রশাসনের অবস্থা ছিল আরও ভয়াবহ। প্রথম দিকে অফিসাররা ছাত্রনেতাদের ডেকে ডেকে নিয়ে কোলে উঠে। পরে বুঝতে পারে, ছাত্ররা ক্ষমতায় নেই। তাই অফিসারদের বড় অংশ উঠে বিএনপি কোলে, বাকিরা জামায়াতের কোলে। তারা সরকারকে নয়, দলকে সার্ভ করেছে। এভাবে কোনো সরকার টিকতে পারে না। তারপরও ইউনূস চালিয়ে গেছেন।
সরকারের প্রতি রাজনৈতিক দলের সমর্থনও ছিল সামান্য। শুধু এটা চাই, ওইটা চাই করে চাপ দিয়ে গেছে। নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হতই। কিন্তু বুদ্ধিজীবী, সিনিয়র সাংবাদিক, চিন্তক, বাম ঘরানা, আওয়ামী কালচারাল এস্টাব্লিসমেন্ট এটা নিয়ে অবিশ্বাস, সন্দেহ, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তৈরির মাধ্যমে পরিবেশকে বিষিয়ে তোলে। তাই দেশে একটি দিনও সুস্থির ছিল না। সর্বত্র ষড়যন্ত্রের কানাকানি চলেছে।
ইউনূস সরকার আমার বিবেচনায় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগেও অসফল নয়। সামগ্রিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে বরং সফল। ব্যাংকখাতে সীমাহীন লুটপাট ও পাচারের কারণে, শেখ হাসিনার সময়ে ডলারের দামের মা-বাপ ছিল না। আজ এক দাম, কাল আরেক দাম। তারপরও ডলার নেই। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি টানা দুই বছর ডাবল ডিজিট ছিল। ইউনূস তা এক অঙ্কে নামিয়ে আনেন। পাচার ও ব্যাংক লুট বন্ধ হওয়ায়, ডলারের দাম গত ১৬ মাস স্থিতিশীল। ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে। শেখ হাসিনার শেষ দেড় বছরে ডলার ৮৪ থেকে ১২৭ টাকা হয়েছিল। আশঙ্কা ছিল ২০০ ছাড়িয়ে যাবে।
পাচার বন্ধের কারণে শুধু ডলার স্থিতিশীল হওয়া নয়, ইউনূস সরকারের আমলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য এবং রেমিট্যান্স অকল্পনীয় বৃদ্ধি পায়। এ কারণে রিজার্ভ বেড়েছে। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট নিট রিজার্ভ ছিল ১৬ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। যা এখন সাড়ে ২৯ বিলিয়ন ডলার। শেখ হাসিনার সময়ে বকেয়া পড়া ঋণের কিস্তি, নানা বিল শোধ করেও ইউনূস সরকার রিজার্ভ বৃদ্ধি করেছে ১৩ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফ ছাড়া, সরকার বড়ধরনের ঋণও নেয়নি। তবে তারাও কিছু বকেয়া রেখেছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি আমদানি করতে পারেনি। রিজার্ভের এই বৃদ্ধি হয়তো বড় কিছু না। কিন্তু অর্থনীতিকে নিশ্চিত পতনের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
সমালোচকরা বিনিয়োগে মন্দার জন্য ইউনূস সরকারকে দায়ী করেন। এতে অবাক হই। আপনি কি আশা করেন, বিধ্বস্ত অনিশ্চিত দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে? বাংলাদেশ ৫ আগস্ট পর চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। শত শত কারখানার মালিক পালিয়ে গিয়েছিলেন। কারখানা বন্ধ হয়েছিল। শ্রমিকরা চাকরি জন্য আন্দোলন করছে- এই পরিস্থিতিতে কে বিনিয়োগ করবে? সরকারকে ঋণ দিতে হচ্ছিল, বেতন পরিশোধে। বাংলাদেশ সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছে। গত কয়েক মাসে কোনো আন্দোলন হয়নি বেতনের জন্য। এখন নির্বাচিত সরকার এসেছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ আসবে। কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পরপর ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। বন্যা এদেশে নতুন কিছু না। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে। কিন্তু ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, সিলেট, ফেনীর মানুষের বন্যা মোকাবেলার অভিজ্ঞতা নেই। কোটি মানুষ সর্বশান্ত হয়ে গিয়েছিল স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায়। তারপরও গত রমজানে দ্রব্যমূল্য ছিল ইতিহাসে সবচেয়ে স্থিতিশীল। চাল, আটাসহ কিছু পণ্যের দাম বাড়লে সার ও বীজের জোগান ভালো থাকায়, গত ১৪ মাস অন্যান্য খাদ্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল।
জ্বালানির দাম স্থিতিশীল ছিল। লোডশেডিং গত গ্রীষ্মে ছিল না। কিন্তু এবারের তীব্র শীতে গ্যাসের তীব্র সংকট হয়েছে। এত লম্বা সময় ধরে তীব্র শীত পড়বে- এটা কারো ধারণাতেই ছিল না। প্রচুর সমালোচনা হয়েছে- কিন্তু এই ফ্যাক্টর কাউকে কনসিডার করতে দেখিনি। দেখুন শীত চলে গেছে, গ্যাস পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
ভারত থেকে হাজারে হাজারে ডিসইনফরমেশন ছড়ানো হয়েছিল সংখ্যালঘু ইস্যুতে। ৫ আগস্টের পর নিশ্চিতভাবেই সংখ্যালঘুদের ওপর কিছু নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছিল। কিছু ছিল আওয়ামী লীগ পদপদবির কারণে। কিছু ঘটেছে সাম্প্রদায়িক কারণে। পরবর্তীতে সময়েও দীপু দাসের হত্যার মত একটি জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ইউনূস সফলভাবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে পেরেছেন। পেরেছেন বলেই এবারের নির্বাচনেই সংখ্যালঘুরা রেকর্ড পরিমাণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে পরে সাম্প্রদায়িক কারণে একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। ভারত সারাদিন বাংলাদেশকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করলেও, ইউনূস সরকার তা কোনো না কোনোভাবে ম্যানেজ করেছে। শেখ হাসিনা ও হাদির খুনিদের ভারতে আশ্রয় দেওয়া ছিল, শত্রুতার চরম পর্যায়। তারপরও ইউনূস সরকার টিকেছিল। আমেরিকার সঙ্গে উইন উইন বাণিজ্য চুক্তি করতে পেরেছেন। যা ভারতের চেয়ে ভালো। জাপানের সঙ্গে দারুণ চুক্তি হয়েছে। সে কারণেই খলিলুর রহমান এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইউনূসের জাহাজ যখন ডুবন্ত, তখন সবাই ঝাঁপ দেয়। ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে বুঝে, বিএনপির কোলে উঠে। আওয়ামী লীগ ও বামেরা তো ইউনূসের বিরোধিতা করবেই- এটাই স্বাভাবিক। কারণ, আদর্শিক পার্থক্য। ইউনূস ভালো করল, না খারাপ করল- ব্যাপার না। যেমন ধরুন, বন্দরের চুক্তি। বামেরা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী। যেখানে রাষ্ট্র পুঁজির নিয়ন্ত্রণ করে, ব্যবসা করে। আজ পুঁজিবাদে রাষ্ট্র ব্যবসা করে না। এই দ্বন্দ্ব কখনও মিটবে না। তাই বন্দর ইজারা আমার কাছে ভালো। কিন্তু বামের কাছে খারাপ। কোনো যুক্তিতে এর সমাধান নেই। এটা বিশ্বাসের ব্যাপার।
আওয়ামী লীগের প্রচুর নেতাকর্মী ইউনূসের সময় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা ক্ষিপ্ত থাকাই স্বাভাবিক। যে কারণে, বিএনপি ও জামায়াত দেড় বছর পরও আওয়ামী লীগের ওপর ক্ষিপ্ত। তবে এটুকু বলতে পারি, ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের চেষ্টা করেছিল। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই চেষ্টা চলে। কিন্তু এতে জামায়াত, এনসিপি তো বটেই বিএনপিও রাজি ছিল না। সরকারের একাধিক উপদেষ্টা এই চেষ্টায় যুক্ত ছিলেন। কিন্তু জুলাই ও ১৫ বছরের ক্ষত মুছে দিতে আওয়ামী লীগ সরি বলতে রাজি হয়নি। অন্যান্য দলও এই সুযোগ দিতে রাজি ছিল না। তাই ইউনূস পারেননি।
বাম এবং আওয়ামী লীগে কালচারাল এস্টাব্লিসমিস্ট ইউনূসের ওপর তীব্র ক্ষিপ্ত ছিল। এর কারণ, সরকারে স্টেক না পাওয়া। বামেরা প্রথমে সরকারের কাছে এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু তাদের যতসামান্য জনসমর্থনের কারণে সরকার তাদেরকে কিছুই দেয়নি বা দিতে পারেনি। কারণ, বিএনপি ও জামায়াতেরই হচ্ছিল না। তারা কাউকে ভাগ দিতে রাজি ছিল না। আর জামায়াতের কারণে বাম এবং আওয়ামী লীগে কালচারাল এস্টাব্লিসমিস্ট আরও ক্ষুব্ধ হয়। শুরু হয় কুৎসা। নারী ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ইস্যুতে বারবার ঘেরাও করা হয়নি। শেখ হাসিনার পতনের পর কট্টর ইসলামপন্থিরা নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করে কিছু অপকর্ম করেছিল। কিন্তু ইউনূস তা মোকাবেলা করেছেন। প্রথম কয়েক মাসের পর এসব আর ঘটেনি। কিন্তু সেগুলো নিয়েই অব্যাহত কুৎসা করা হয়েছে। কুৎসা ছিল, দেশ পাকিস্তান হয়ে গেছে।
ইউনূসের সমালোচনা করার কারণে কাউকে ১৮ মাসে জেলে যেতে হয়নি। কয়েকজন সাংবাদিক জেলে আছেন। তবে কেউ সাংবাদিকতা, সমালোচনার কারণে নয়। ইউনূসের কৃতিত্ব, তাঁকে যা খুশি গালি দিতে পারতাম। খুব সহজে ‘চোদানির ফোয়া’ বলা যেতো ভয় ডর ছাড়াই। নতুন সরকারের কাউকে নিয়ে বলতে গেলে, দশবার ভাবতে হবে। অথবা পারলে বলে দেখুন।
ইউনূসের মাস্টারস্ট্রোক ছিল নির্বাচন। আমারই আশঙ্কা ছিল, নির্বাচনে প্রচুর মারামারি হবে, পুলিশ যথারীতি দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে। রক্ত গঙ্গা বইবে। কিন্তু এবারই প্রথম প্রাণহানী ছাড়া নির্বাচন হয়েছে। যা ওয়ান ইলাভেনের কঠিন ছদ্ম সামরিক শাসনেও সম্ভব হয়নি।
ইউনূসের ম্যান্ডেট ছিল ১. বিচার , ২. সংস্কার, ৩. নির্বাচন। এই তিনটাতেই তিনি সফল। সফল বলেই গুমে মামলায় অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তারা আজ কারাগারে। এই সাহস বাংলাদেশের আর কোনো সরকারের হবে না। সংস্কার নিয়ে প্রচুর বিরোধিতা রয়েছে। কারণ, এতে এলিট এস্টাব্লিসমেন্ট এবং রাজনৈতিক ক্ষমতাধরদের সীমাহীন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত ও জবাবদিহিতার মধ্যে আসবে। যা পছন্দ নয়। তাই সংস্কার নিয়ে হেনো মিথ্যাচার নেই- যা করা হয়নি।
১৭ বছরের জিম্মিদশা থেকে মুক্তির কারণেই যার যা মনে এসেছে সে তা বলতে পেরেছে নির্ভয়ে। গড় দেড় বছরের মত টকশো, সোশ্যাল মিডিয়া কখনই এত টক্সিক ছিল না। ইউনূস নির্বাচন দেবে না, ক্ষমতালোভী, দেশ বিক্রিকারী, আঁতাতকারী- যা ইচ্ছা বলা গেছে। এটাই ইউনূস সরকারের বড় সফলতা।
ইউনূস সরকারের দিক থেকে আমাকে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির অফার করেছিল। আমি যাইনি। ভবিষ্যতেও সরকারি কাজে যাব না। সাংবাদিকতা আমার কাজ। এ কারণেই সরকারের প্রশংসা করতে পারিনি। এখন ইউনূস নেই। তার সরকারের আর কিছু দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তাই এখন বলছি। অধ্যাপক সাহেব আরও কোনদিন ক্ষমতায় আসবেন, সম্ভাবনা নেই।
ইউনূস সরকার স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নির্বাচিত সরকার হলে হয়ত পাস নম্বর দিতাম। কিন্তু যে পরিস্থিতি দেশের ছিল, সেখান থেকে পতন রোধ করে শক্তি ভিত রেখে যাওয়ায় ১০০ তে ১১০ নম্বর দিচ্ছি। থ্যাংক ইউ প্রফেসর। আপনাকে মিস করব।
About the Author
Rajib Ahamod is a Bangladeshi journalist. He has been working for the daily Samakal since 2009. His areas of work include politics, political analysis, human rights, labor protection, and infrastructure development.
Disclaimer: The views expressed in this article are the author’s own and do not necessarily reflect The Insighta’s editorial stance. However, any errors in the stated facts or figures may be corrected if supported by verifiable evidence.


